নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি সিরামিক ব্রিকফিল্ড কারাখানায় চাদাঁবাজি করার অভিযোগে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর বড় ছেলের ব্যক্তিগত সহকারীসহ ( পিএস) পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

আজ শুক্রবার বিকালে উপজেলার গোলাকান্দাইল এলাকা থেকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপকের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতাও মিলেছে।

ওসি জানান, সম্প্রতি বিশ্বাস সিরামিকস অ্যান্ড ব্রিকস লিমিটেড কারখানায় ২৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবির করেন মন্ত্রীর বড় ছেলে গোলাম মতুর্জা পাপ্পা গাজীর পিএস কামরুজ্জামান হীরাসহ বেশ কয়েকজন। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন ম্যানেজার) সাব্বির আহমেদ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বরাত দিয়ে ওসি মাহমুদুল হাসান আরো জানান, উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাওঘাট এলাকায় অবস্থিত ওই প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক সাব্বির আহমেদের কাছে কিছুদিন ধরে ২৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল গাজী গ্রুপের এমডি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক গোলাম মর্তুজা পাপ্পার পিএস পরিচয়দানকারী কামরুজ্জামান হীরা ও তার সহযোগীরা। চাঁদা না দিয়ে কারখানার উৎপাদন চালু রাখলে হত্যা করার হুমকিও দেয় তারা। আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারখানার প্রধান ফটকে ট্রাকে মালামাল তুলেছিলেন চালক তুহিন মিয়া। এসময় ১৬/১৭জন সহযোগীসহ কামরুজ্জামান হীরা এসে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে মালামাল তুলতে বাধা দেয়। তখন কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ এগিয়ে গেলে তাকে ভয়ভীতি দেখায় তারা। চাঁদার টাকা না দেয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধসহ উৎপাদিত মালামাল বাইরে কোথাও পাঠাতে দেয়া হবে না বলেও হুমকি দেয় তারা। কথা না শুনলে সাবিব্বর আহমেদকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়া হয়।

ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, সাব্বির আহমেদ মামলায় কামরুজ্জামান হীরাসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরো ১০ জনকে আসামি  করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে আজ বেলা ৩টার দিকে গোলাকান্দাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামরুজ্জামান হীরা, মহিউদ্দিন, তাপস দাস, সাজ্জাদ হোসেন ও রনি ভূইয়া নামে এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করে। আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চাঁদাবাজির মামলায় অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, চাঁদাবাজির মামলায় পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। তবে সেখানে গাজী গ্রুপের এমডি গোলাম মর্তুজা পাপ্পার পিএস কেউ আছেন কিনা আমার জানা নেই। 

তিনি বলেন, আইনের উর্ধ্বে কেউ নন। অপরাধ করলে সে যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। 

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য গাজী গ্রুপের এমডি গোলাম মতুর্জা পাপ্পা গাজীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি জবাব দেননি।