সিলেটের পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের যুবকের মৃত্যুর অভিযোগে ৪ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও ৩ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতদের মধ্যে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ উপ পরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াও রয়েছেন।
আজ সোমবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার বলেন, নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে কয়েকজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সিলেট নগরীর কোতয়ালি থানা এলাকার এই ফাঁড়িতেই গতকাল রোববার ভোরে রায়হান আহমদ (৩৩) নামের এক যুবক মারা যান। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথমে দাবি করা হয়েছিল, নগরীর কাষ্টঘর এলাকায় ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে রায়হান মারা গেছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথম থেকেই দাবি করা হচ্ছে, পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে রায়হানকে মেরে ফেলা হয়েছে। রোববার ভোরে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ফোন দিয়ে রায়াহারের চাচার কাছে টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।
এদিকে, এ ঘটনায় রোববার রাত আড়াইটার দিকে রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে বন্দরবাজার ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে তাহমিনা আক্তার অভিযোগ করেন, কে বা কারা রায়হানকে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে হত্যা করেছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিনের মতো গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে তার রায়হান আহমদ নিজ কর্মস্থল নগরীর স্টেডিয়াম মার্কেটস্থ ডা. গোলাম কিবরিয়া ও ডা. শান্তা রাণীর চেম্বারে যান। পরদিন ভোর ৪টা ৩৩ মিনিটে একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে রায়হানের মা সালমা বেগমের মোবাইল নম্বরে একটি কল আসে। সেটি রিসিভ করেন রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ চৌধুরী। এসময় ফোনে রায়হান আর্তনাদ করে বলেন, তিনি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আছেন। তাকে বাঁচাতে দ্রুত টাকা নিয়ে বন্দর ফাঁড়িতে যেতে বলেন রায়হান। এ কথা শুনে রায়হানের চাচা ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে গেলেও রায়হানের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি পুলিশ। পরে সকালে চাচা ওসমানী হাসপাতালে খোঁজ নিতে গিয়ে দেখেন সেখানে রায়হানের মরদেহ পড়ে আছে।
তাহমিনা এজাহারে আরো উল্লেখ করেন, আমার স্বামীকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে পুলিশি হেফাজতে রেখে হাত-পায়ে আঘাত করে এবং হাতের নখ উপড়ে ফেলে। পুলিশ ফাঁড়িতে রাতভর নির্যাতনের ফলে আমার স্বামী মৃত্যুবরণ করেন।
এদিকে পুলিশ গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হওয়ার কথা বললেও এই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে গণপিটুনির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে তা আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে যাদের নাম আসবে সবাইকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।










