ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় বসন্তকে বরণ করে নিতে বসন্ত উৎসব আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ। একই উৎসব সমগীত সংগীত ব্যান্ড আয়োজন করেছে ক্যাম্পাসের বটতলায়। গান, দলীয় নাচ, কবিতার মধ্য দিয়ে বরণ করে নেয়া হয় ঋতুরাজ বসন্তকে।

চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় আজ শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় ‘বসন্ত উৎসব ১৪৩১’, শেষ হয় দুপুর ১২টায়। ফাগুনের প্রথম দিন সকালে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চলে এ আয়োজন।

সমবেত বাদ্যযন্ত্র, বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। উৎসবে দেশের অগ্রগণ্য নৃত্য ও সংগীতের দল, বরেণ্য শিল্পী, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবেশনা ছাড়াও বসন্ত কথন পর্ব, প্রীতি বন্ধনী বিনিময়, আবির বিনিময়সহ নানা কার্যক্রম রাখা হয়। বসন্ত কথন পর্বে সভাপতিত্ব করেন বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি স্থপতি সফিউদ্দিন আহমদ, বক্তব্য দেন সহসভাপতি কাজল দেবনাথ ও সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইটসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তি। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন নায়লা তারাননুম চৌধুরি কাকলি ও আহসান দিপু।

উৎসবটিকে ঘিরে উৎসবমুখর রাজধানীর নানা স্থান থেকে আসেন সংস্কৃতি প্রেমিক মানুষ। তাদের প্রত্যাশা বসন্ত উৎসব দেশের সংস্কৃতিতে বৈচিত্র্য নিয়ে আসবে; পারস্পরিক দূরত্ব ঘোচাতে সাহায্য করবে।

উপস্থিত দর্শনার্থী ও ঢাবি শিক্ষার্থী নওরোজ তাবাসসুম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সকালে উঠেই এখানে চলে এসেছি বসন্ত উৎসব দেখতে। এরপর বইমেলায় যাব। বসন্তের প্রথম দিনটি সারা দিন উপভোগ করব।’

উৎসবে আসা অপর একজন বলেন, ‘বসন্ত আমাদের প্রাণের উৎসব। একই দিনে ফাগুনের প্রথম দিন ও ভালোবাসা দিবস হওয়ায় দিনটি আরো বেশি উপভোগ করছি।’

এ দিন কলাভবনের বটতলায় বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে সমগীত সংগীত ব্যান্ড। ‘পৃথিবীর নদী, বন কিংবা পাহাড়, মানুষ মালিক নয়, বন্ধু তাহার’ এই আহ্বানে সমগীত বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন করেছে তারা। আয়োজনটি সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়ে চলে বিকাল ৩টা পর্যন্ত।

সমগীতের এ আয়োজনে গান পরিবেশন করেন শিল্পী কফিল আহমেদ, লীলা, কৃষ্ণকলি, সায়ান, সমগীত, আদিবাসী ব্যান্ড রেরে, সুডোস অন আ রং রুট, অমৌলিক ও গঙ্গাফড়িং। এ ছাড়া নৃত্য নিয়ে ছিলেন আকরামুল হিজড়া, এবং সাচিং মং মারমা। যন্ত্রসংগীতে ছিলেন বিদ্যুৎ সরকার ও পিয়াস আকবর।