কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মির (আরসা) ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তাদের মধ্যে একজন আরসার বাংলাদেশের প্রধান কমান্ডার বলে দাবি র‌্যাবের।

বুধবার (১৩ মার্চ) রাতে উখিয়া উপজেলার ঘোনারপাড়া ২০ নম্বর এক্সটেনশন ক্যাম্পের এ-৫ ব্লকে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন ২০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এম-৩৩ ব্লকের আহাম্মেদ হোসেনের ছেলে মো. করিম উল্লাহ ওরফে মাস্টার কলিম উল্লাহ (৩২), কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-১৫ ব্লকের মৃত মো. কায়সারের ছেলে মো. আকিজ (২৭), বালুখালী ১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ই-৩ ব্লকের আবুল হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ জোবায়ের (২৯) এবং টেকনাফ উপজেলার ২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-৪ ব্লকের মৃত হাসমত উল্লাহর ছেলে সাবের হোসেন ওরফে মৌলভী সাবের (৩৫)।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. করিম উল্লাহ ওরফে মাস্টার কলিম উল্লাহ আরসার বাংলাদেশের প্রধান কমান্ডার ও অর্থ শাখার প্রধান ক্যাশিয়ার এবং মো. আকিজ আরসা প্রধান আতাউল্লাহ জুনুনির অন্যতম দেহরক্ষী। অপর দুইজন আরসার সক্রিয় সদস্য। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশী পিস্তল, একটি এলজি, ৭টি ককটেল, ৫ রাউন্ড অ্যামুনিশন ও ১২ বোর এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-১৫ অধিনায়ক এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন। 

তিনি বলেন, আরসার শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ক্যাম্প-২০ এ অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র‍্যাব। আরসার সন্ত্রাসীদের আস্তানার কাছাকাছি গিয়ে ক্যাম্পের কয়েকটি ব্লক ঘিরে ফেলি আমরা। এ সময় ধাওয়া দিয়ে চারজনকে আটক করি। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়ি আস্তানা থেকে বেশ কয়েকটি বিদেশী পিস্তলসহ গুলি উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃত চারজনের মধ্যে মিয়ানমারের সন্ত্রাসী সংগঠন আরসার বাংলাদেশ শাখার প্রধান কমান্ডার ও অর্থ শাখার প্রধান মো. করিম উল্লাহ ওরফে মাস্টার কলিম উল্লাহ এবং আরসা প্রধান আতাউল্লাহ জুনুনির অন্যতম দেহরক্ষী আকিজ রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান  র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।