আসন্ন জুনে গণপরিষদ নির্বাচন ও বিপ্লবী সরকার গঠনসহ ১১ দফা দাবিতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২৯ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মুহাম্মদ আকরম খাঁ হলে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। তাদের দাবিগুলো নিম্নরূপ—

১. বিচার

ক. জুলাই গণহত্যা, শাপলা ও পিলখানা ম্যাসাকার এবং বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচারে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন।

খ. জড়িতদের অনতিবিলম্বে দেশ বিদেশ থেকে বন্দি করে আনার জন্য বিশেষ বাহিনী গঠন।

গ. জুলাই গণহত্যা, শাপলা ও পিলখানা ম্যাসাকার এবং বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের হত্যায় জড়িত সকল কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্তকরণ।

ঘ. ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল-সামাজিক সংগঠন-সাংস্কৃতিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাতিলকরণ।

ঙ. ছয় মাসের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা।

২.

জুলাই গণহত্যা, শাপলা ও পিলখানা ম্যাসাকারের শহীদ এবং বিএনপি-জামায়াতের শহীদ নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ ও আহতদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

৩.

ক. জুন ২০২৫ এ গণপরিষদ নির্বাচন দিতে হবে

খ. গণপরিষদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মনোনীত শহীদ পরিবারের সদস্য, ছাত্র প্রতিনিধি, নাগরিক প্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন।

৪. গণপরিষদ বাহাত্তরের সংবিধান বাতিল, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে অপসারণ ও উপদেষ্টা সরকার ভেঙে দেবে।

৫.

ক. গণপরিষদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে রাষ্ট্রপতি শাসিত বিপ্লবী সরকার গঠন করবে।

খ. বিপ্লবী সরকারের একটি অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিপরিষদ থাকবে, যার নেতৃত্ব দেবেন গণপরিষদের সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী।

৬.

ক. জানুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে।

খ. নতুন সংবিধান প্রণয়নের ৩ মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন করতে হবে।

৭.

ক. ড. ইউনূসকে চেয়ারম্যান এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে ভাইস চেয়ারম্যান করে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করতে হবে।

খ. জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল দেশ বিরোধী সকল চুক্তি রিভিউ করে বাতিল করবে।

গ. জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল সকল বাহিনীকে পুনর্গঠন করবে ও পরবর্তীতে মনিটরিং করবে।

ঘ. জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠনকালীন সময়ে সেনা ও অন্য বাহিনীর সমন্বয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে।

৮.

ব্যবসায়ীদের নেতৃত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ গঠন করে অর্থনীতি সচল ও সংস্কার, কালো টাকা উদ্ধার ও সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য জনগণের আয়ত্তের মধ্যে রাখতে হবে।

৯.

ক. আধুনিক উন্নত মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে শিক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে।

খ. শিক্ষকতাকে প্রথম শ্রেণীর পেশা ঘোষণা করে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ বেতন দিতে হবে।

গ. মাস্টার্স পর্যন্ত শিক্ষা ফ্রি ও শিক্ষার্থীদের জন্য সুদমুক্ত শিক্ষা ঋণ চালু করতে হবে।

ঘ. সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সারা দেশে উন্নত আবাসন ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

১০.

ক. সকল গরিব ও মেহনতি মানুষের চিকিৎসা খরচ রাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

খ. ব্যয়বহুল জটিল রোগের চিকিৎসা সকল নাগরিকের জন্য ফ্রি করতে হবে।

গ. চিকিৎসা ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সকল বিভাগে একাধিক বিশেষায়িত হাসাপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

১১.

ক. ঘণ্টা প্রতি সর্বজনীন মজুরি ঘোষণা করতে হবে

খ. বিনা সুদে কর্মসংস্থান ঋণ প্রদান এবং

গ. শ্রমজীবীদের জন্য আবাসন ও সন্তানদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়তে হবে।