সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কে গতকাল তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সকালে এ মহাসড়কে ঢাকাগামী লেনে যানবাহন কিছুটা ধীরগতিতে চলাচল করলেও উত্তরবঙ্গগামী লেনে তীব্র যানজট দেখা দেয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। মূলত বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত নলকা সেতুকে কেন্দ্র করেই এ যানজটের সৃষ্টি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল সকালে যানজটের পরিমাণ কিছুটা কমলেও বেলা বাড়তেই ধীরে ধীরে ফের বেড়ে যায় যানজট। নলকা সেতুকে কেন্দ্র করে এ যানজট পূর্বদিকে কড্ডার মোড় ও পশ্চিমে হাটিকুমরুল গোলচত্বর পর্যন্ত মোট ১৭ কিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত হয়।

নলকা সেতু ও এর দুপাশে সড়কের খানাখন্দ থাকায় মঙ্গলবার যানজটের সূত্রপাত হয়।

দিনভর থেমে থেমে যানজট থাকলেও বিকাল থেকে তা তীব্র আকার ধারণ করে। মঙ্গলবার রাতে যানজট ৪৫ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

শাহজাদপুরের আবু হানিফ বলেন, তিনি ব্যাংকের কাজে শহরে আসছিলেন, কিন্তু যানজটের কবলে পড়ে নলকা এলাকায় বাসের মধ্যে ২ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। যাত্রীদের এ দুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।

ট্রাকচালক বাবুল সেখ বলেন, এক সপ্তাহ ধরে এ মহাসড়কে যানজট বেড়েছে। হাটিকুমরুল থেকে নলকা সেতু পার হতে যেখানে ২০ মিনিট সময় লাগে, যানজটের কারণে এ রাস্তাটুকু পার হতে এখন ৩-৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লাগছে। এ যানজট অসহনীয়। যানজটের কবলে পড়ে যানবাহন চালক ও যাত্রীদের নাকাল হতে হচ্ছে। এর প্রতিকারে কেউ চেষ্টা করছে না। ফলে আমাদের সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে।

হাটিকুমরুল হাইওয়ের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত জরাজীর্ণ নলকা সেতু দিয়ে যানবাহন ধীরগতিতে পারপার হচ্ছে। ফলে এ সেতুকে কেন্দ্র করেই যানযটের সৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার দিনভর যানজটের কবলে ছিল এ মহাসড়ক। গতকাল সকালে চাপ কিছুটা কমলেও সকাল ৯টার পর থেকে ফের যানজট বেড়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সালেকুজ্জামান বলেন, উত্তরবঙ্গ-ঢাকা মহাসড়কের নলকা পর্যন্ত সড়কটি খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে প্রায় ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নলকা সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এখানে গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারে না। এতে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে যানজট নিরসনে হাইওয়ে থানা পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।