তামাকজনিত রোগ ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবিতে মিনি ম্যারাথনের আয়োজন করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর জিয়া উদ্যানের সামনের সড়কে এই ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়।

ম্যারাথনটি জিয়া উদ্যান থেকে শুরু হয়ে গণভবনের সংলগ্ন সড়ক ঘুরে আবার জিয়া উদ্যানেই শেষ হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশে প্রতিবছর ১ লাখ ৬১ হাজার ২৫৩ জন মানুষ তামাক ব্যবহারের কারণে মারা যায়। এছাড়া তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় বছরে ৪২ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয়। তাই আইনের সংশোধনের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করলে এই মৃত্যুর সংখ্যা ও চিকিৎসা ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভীর সভাপতিত্বে মিনি ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ তামাক ব্যবহার করে। এর মধ্যে ১৮ শতাংশ ধূমপান করে এবং ২০ দশমিক ৬ শতাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্য সেবন করে (গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে, ২০১৭)। এছাড়া ১৩-১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের ৬ দশমিক ৯ শতাংশ তামাক সেবন করছে (গ্লোবাল ইয়ুথ টোব্যাকো সার্ভে, ২০১৩), যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান অনুযায়ী শক্তিশালী করতে হলে ছয়টি ধারা সংশোধন করা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ধারাগুলো হলো— সকল পাবলিক প্লেস ও যানবাহনে ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান নিষিদ্ধ করা, তামাকজাত দ্রব্যের বিক্রয়স্থলে পণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা, ই-সিগারেটসহ সব নতুন ধরনের তামাকজাত পণ্য থেকে কিশোর-তরুণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট বা কৌটায় সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার আকার ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা, বিড়ি-সিগারেটের খুচরা শলাকা, মোড়কবিহীন ও খোলা ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বলেন, সুস্থ থাকতে হলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য পাবলিক প্লেস শতভাগ ধূমপানমুক্ত করতে হবে ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো তরুণদের লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে কৌশলগত প্রচারণা চালাচ্ছে। এদের মূল লক্ষ্য জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে শুধু মুনাফা অর্জন করা। তাই তাদের প্রতিরোধে কঠোর আইন বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

মিনি ম্যারাথনে আরো উপস্থিত ছিলেন হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের ভাস্কুলার সার্জন ডা. সাকলায়েন রাসেল, হার্ট ফাউন্ডেশনের তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির পরামর্শক নাইমুল আজম খান এবং ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার আতাউর রহমান।

তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরাও এ আয়োজনে অংশ নেন।