৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাড়ে ২৭ হাজার শিক্ষার্থী ২৬টি কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল-হোস্টেলের ছাত্র নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন।
এবারের চাকসু নির্বাচনে সর্বমোট প্রার্থী হয়েছেন ৯০৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে মোট ২৬টি পদে লড়ছেন ৪১৫ প্রার্থী। এছাড়া ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলে প্রার্থী হয়েছেন ৪৯৩ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনের ১৫টি কেন্দ্রে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চাকসু ভবনে ১টি অতিরিক্ত কেন্দ্র স্থাপন করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব কেন্দ্রের জন্য প্রস্তুত ৭০টির মতো কক্ষ। প্রতিটি কক্ষে থাকছে ৫টি ব্যালট বাক্স, থাকছেন ৫ জন করে এজেন্ট। একটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৫০০ ভোটার ভোট দিতে পারবেন।
চাকসু নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ভোটার ২৭ হাজার ৫১৮ জন। এর মধ্যে ছেলে ভোটার আছেন ১৬ হাজার ১৮৯ ও নারী ভোটার রয়েছেন ১১ হাজার ৩২৯ জন। অন্যদিকে, ১৪টি হল সংসদে লড়বেন ৪৭৩ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্রদের ৯টি হল ও ১টি হোস্টেল মিলে ৩৫০ জন এবং ছাত্রীদের ৫টি হলে ১২৩ জন। যার মধ্যে ছেলেদের হলগুলোতে রয়েছে- এএফ রহমান হলে ৩৮, আলাওল হলে ৩২, অতীশ দীপংকর হলে ৩৭, শাহ আমানত হলে ৪৩, শহীদ ফরহাদ হোসেন হলে ৪৫, মাস্টারদা সূর্যসেন হলে ৩৭, শহীদ আব্দুর রব হলে ৩১, শাহজালাল হলে ৩৪, সোহরাওয়ার্দী হলে ৫৩। এ ছাড়া শিল্পী রশিদ চৌধুরী হোস্টেলে ২০ জন প্রার্থী রয়েছে। এ ছাড়া মেয়েদের হলগুলোর মধ্যে- বিজয়-২৪ হলে ২৮, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলে ৩০, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলে ১৭, প্রীতিলতা হলে ২৬, শামসুন্নাহার হলে ২২ জন প্রার্থী হয়েছেন।
ভোট গ্রহণ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেড় হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাবাহিনী দায়িত্বে থাকবে। এর মধ্যে র্যাবের ৮টি ব্যাটালিয়ন টিম রয়েছে, যারা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে অবস্থান করবে। বিভিন্ন স্থানে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত রিজার্ভ টিম মোতায়েনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫টি অনুষদে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিশেষ নিরাপত্তা টিম কাজ করবে। তবে সেনাবাহিনী থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে।
চাকসু নির্বাচনের ভোট হবে ব্যালট পেপারে। গণনা হবে ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে ভোটারদের বৃত্ত পূরণ করে ভোট দিতে হবে। নির্বাচনের কেন্দ্রীয় সংসদের ফল প্রকাশ করা হবে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে। তবে নিজ নিজ কেন্দ্র থেকে হল সংসদের ফল ঘোষণা করা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মনির উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ভোট হবে ব্যালটে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা হবে ওএমআর পদ্ধতিতে। অ্যানালগ পদ্ধতিতে গণনা করলে অনেক সময় লাগবে। তাই ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল ঘোষণার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া ছাড়াও স্বচ্ছতার স্বার্থে গোপন কক্ষ ছাড়া সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা যুক্ত থাকবে।
চাকসু নির্বাচনকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত। দীর্ঘদিন পর চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রচারণার সময় ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চট্টগ্রাম শহর থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ বাস সার্ভিস ছাড়াও শাটল ট্রেনের ট্রিপ বৃদ্ধি এবং স্পেশাল শাটল পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে।










