খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে কুলবাড়িয়ার স্লুইচ গেটের সামনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ৫০ হেক্টর বোরো ধানের জমি প্লাবিত হয়েছে। পানি ঢুকেছে মৎস্য ঘেরেও। নোনা পানি প্রবেশ করায় ধান ও সাদ মাছ নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।

আটলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রতাপ কুমার রায়ের তত্ত্বাবধানে কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি রক্ষা করেছেন। কিন্তু জমিতে নোনা পানি আটকে রয়েছে।

কৃষক আমজাদ মোড়ল জানান, জোয়ারের পানির চাপে গত ৯ এপ্রিল বিকালে কাঁঠালতলা মাগুরখালি সড়কের কুলবাড়িয়া স্লুইচ গেটের সামনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধ ভেঙে কুলবাড়িয়া বিল, নিচুখালি বিল, চুকনগর বিল, চাকুন্দিয়া বিল, ছোট চ্যাংমারী বিল, বড় চ্যাংমারী বিল, মালতিয়া বিল, মাগুরাঘোনা ইউনিয়নের সব বিল, তালা উপজেলার কয়েকটি বিল, গাদরছা বিলসহ আরো কয়েকটি বিলের ইরি-বোরো ধানের জমিতে নোনা পানি প্রবেশ করে। কিছু স্থানের ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রতাপ কুমার রায় জানান, গত ৯ এপ্রিল বিকালে বাঁধটি ভেঙে ভেতরে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। সংবাদ পেয়েই তিনি স্থানীয় লোকদের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে বাঁধটি আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। দুতিন দিন রাতদিন পরিশ্রম করে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধটি বাঁধাসহ পুরনো স্লুইচ গেটটি আপাতত বন্ধ করা গেছে। এখনো কাজ শেষ হয়নি।  তিনি বলেন, বাঁধ ভেঙে নোনা পানি প্রবেশ করায় ইরি ধানের ক্ষতি হতে পারে। 

বাংলাদেশ পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, কিছু অতিলোভী মানুষের কারণে এই বাঁধটি ছুটে গিয়ে এ অঞ্চলে ইরি জমির ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম। তাছাড়া অনেক মৎস্য ঘেরও তলিয়ে গেছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, নদীর বাঁধ ভেঙে পানি উঠেছে। কৃষকরা এক হয়ে বাঁধটি আটকে দিয়েছেন। কিন্তু ৫০ হেক্টর ইরি ধানের জমিতে পানি জমে আছে। এ পানিতে কিছু ধানের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তা নিশ্চিত হতে আরো সপ্তাহখানেক সময় লাগবে।