সুপার সাইক্লোন আম্পানের প্রভাবে গতকালই খুলনায় বৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত নানাভাবে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আনা হলেও বৃষ্টি থামার পর বাড়িতে চলে গেছেন অনেকেই। আজ বুধবার সকালে আবার তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে ফেরাতে তোড়জোড় শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। তবে লোকজনকে ফেরাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

আজ বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত দাকোপ, কয়রা ও পাইকগাছায় ৬০ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া সম্ভব হয়েছে।

খুলনায় ৩৪৯টি নির্দিষ্ট আশ্রয় কেন্দ্র থাকলেও করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপজেলার স্কুল-কলেজ মিলিয়ে অস্থায়ীভাবে ৮১৪টি আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি করা হয়। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৫ লাখ মানুষ অবস্থান নিতে পারবেন। এছাড়া খুলনা সিভিল সার্জন অফিস ৯টি উপজেলায় ১১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে।

দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩০ হাজার মানুষকে ৩৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছিল। রাতে বৃষ্টির চাপ কম হওয়ার কারণে এসব মানুষ আবার বাড়িতে ফিরে যায়। আশ্রয় কেন্দ্রের আশপাশেই এদের অবস্থান। তাই পরিস্থিতি হালকা দেখে ঘরে ফিরে গেছেন। তবে বুধবার সকাল থেকে আবারও মাইকিং করে ও নানান কৌশল নিয়ে মানুষজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া শুরু হয়। সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৫ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া হয়েছে।

দুপুরের মধ্যেই অন্যান্য সবাইকেই আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়ার কাজ সম্পন্ন করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা।

পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুলিয়া সুকায়না বলেন, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সাড়ে ৭ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া সম্ভব হয়েছে। প্রশাসনের তৎপরতা অব্যহত রয়েছে। আম্পান আসার আগেই নদীর পানি বেড়েছে। তাই নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষকে যে কোন প্রক্রিয়ায় আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিমুল কুমার সাহা বলেন, মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়া সম্ভব হয়েছে। কয়রা জুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যহত রয়েছে।

খুলনা জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক জোয়ার্দার বলেন, যারা আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করবেন তাদের দুই বেলা খাবার দেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে খিচুড়ির ব্যবস্থা করবেন।

ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। আম্পান উপকূলে আছড়ে পড়ার আগেই খুলনার নদ-নদীতে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় এবং দ্বিতীয় পক্ষের চাঁদের সময়ের শেষ দিনের প্রভাবে উপকূলীয় কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এর মধ্যে খুলনা জেলাও রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আম্পান উপকূলে আঘাত হানার আগেই খুলনার নদ নদীরে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপকূলীয় উপজেলা পাইকগাছা, দাকোপ এবং কয়রা এলাকায় পানির স্বাভাবিক মাত্রার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পশুর নদীতে পানি প্রবাহের মাত্রা রয়েছে ২ দশমিক ৭৯ মিটার। এ নদীর স্বাভাবিক মাত্রা ২ দশমিক ৪৪ মিটার। আর খুলনা শহরের রূপসা নদীতে প্রবাহিত পানির সীমা রয়েছে ২ দশমিক ৫২ মিটার।