হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু বন্ধে পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা। এ বিষয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) হেফাজতে নির্যাতন ও দায়বদ্ধতা: প্রতিবন্ধকতা ও প্রতিকার শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তারা। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে মতবিনিময় সভাটি আয়োজন করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না বলেন, আমাদের মাঝে মেনে চলার প্রবণতা রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কেউ অনৈতিক কিছু করতে বললে, আমরা তা করি। সেটা আইনি হোক বা বেআইনি। আমাদেরকে প্রতিনিয়ত মেনে চলার এ প্রবণতা বাদ দিতে হবে। অন্যায়কে না বলার সংস্কৃতি তৈরি করতে হবে।

বাংলাদেশে বিদ্যমান অন্তত তিনটি আইন—দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি ও বাংলাদেশ পুলিশ প্রবিধান যুগোপযোগী না হওয়ার কারণে তা সংশোধন প্রয়োজন বলেও মনে করেন জেড আই খান পান্না।

মতবিনিময় সভায় ব্লাস্টের অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, হেফাজতে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তির আইনগত সুরক্ষার পাশাপাশি আর্থিক এবং সার্বিক সহায়তা প্রয়োজন। যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেক সময় তারা বিভিন্ন কারণে প্রতিকার চান না। তাদের প্রতিকার চাওয়া নিয়ে কাজ করতে হবে ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

হেফাজতে নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীর সহায়তার জন্য হটলাইন নম্বর চালু করার কথাও বলেন সারা হোসেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মোশতাক আহমেদ বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুলিশি মামলায় রিমান্ডের শিকার ব্যক্তিদের দায়িত্বরত ডাক্তার মানসিক ও শারীরিক উভয় বিষয়ে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করেন। এরপরও একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র ২০ শতাংশ মানুষ পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, অবশিষ্টরা শারীরিকভাবে সুস্থ হলেও মানসিকভাবে ট্রমার শিকার হয়ে বেঁচে থাকেন।

জোরপূর্বক গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দেয়া না গেলে এবং সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব না হলে , আইনের সঠিক প্রয়োগ সম্ভব নয়। একইসঙ্গে বিদ্যমান আইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা বা ব্যাখ্যা না জানার কারণেও অনেকসময় প্রতিকার পাওয়া যায় না বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল নোমানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট নাজমুল করিম, অ্যাডভোকেট মো. আবু তৈয়বসহ প্রমুখ।