নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেয়া রোকসানা আক্তার নামে এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে আসামি মনির হোসেন ও আমির হোসেনকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী নগরে র‍্যাব-১১-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা।

১৮ জুলাই সোনারগাঁর সাদিপুর ইউনিয়নের বাইশটেকী দেওয়ান বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয়া এক সন্তানের জননী রোকসানা আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২০ জুলাই নিহতের ছোট ভাই মো. এনামুল হক বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা করেন।

র‍্যাব অধিনায়ক জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ভিকটিম রোকসানা আক্তারের স্বামীর সঙ্গে সাত-আট বছর আগে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। জীবিকার জন্য উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের বাইশটেকী গ্রামের দেওয়ান বাড়িতে জামদানি শাড়ি তৈরির কাজ করতেন। সেই সুবাদে ওই বাড়ির মৃত রাজু মিয়ার ছেলে মনির হোসেনের (৪৫) সঙ্গে রোকসানার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ভিকটিম বিয়ের ব্যাপারে মনির হোসেনকে চাপ দেন। আসামি মনির তার মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর তাকে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন।

১৫ জুলাই মনিরের মেয়ের বিয়ে হয়। ভিকটিম ১৮ জুলাই বিয়ের দাবিতে মনিরের বাড়িতে অবস্থান নেন। এ সময় মনিরের বাড়ির লোকজন তাকে একাধিকবার বাড়ির বাইরে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেয়। ভিকটিম তার অবস্থানে অনড় থাকায় মনির হোসেন, তার ভাই গোলজার, খোকন ওরফে খোকা, ছেলে রানা, মনিরের স্ত্রীসহ অন্য আসামিরা রোকসানাকে লোহার পাইপ, লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। মুমূর্ষু অবস্থায় ভিকটিমকে মনির হোসেন ও তার সহযোগীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রোকসানাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 এ সংবাদ জানার পর মনির ও তার সহযোগীরা মরদেহ রেখেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।