দেশের সব নাগরিক নিরাপদে চলাচল করবে, এমন রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যের কথা ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপির লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে সব নাগরিক দিন-রাত যেকোনো সময় নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন এবং পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন।’
গতকাল দুপুরে রাজধানীর বনানী কামাল আতাতুর্ক এভিনিউ খেলার মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এ কথা বলেন। তিনি এ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী।
তারেক রহমান বলেন, ‘মানুষ যদি কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা পায়, তাহলে সমাজে অপরাধ কমে আসে। সে কারণে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে কোনো নাগরিককে ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না। মানুষের মূল্যায়ন হবে তার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী কিংবা শ্রমজীবী—সবাই যেন নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে নিশ্চয়তা দেয়া হবে।’
ঢাকা-১০ আসন: পরে রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান বক্তব্য দেন। এতে ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী রবিউল আলম রবি সভাপতিত্ব করেন।
তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষকবলিত বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে খাদ্য রফতানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যায়। তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বাংলাদেশকে “এমার্জিং টাইগার” বলে স্বীকৃতি দেয়। তিনি মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করেছিলেন। এ ইতিহাসই প্রমাণ করে—বিএনপি অভিজ্ঞতার আলোকে দেশ পরিচালনা করতে সক্ষম।’
প্রায় দেড় কোটির মতো প্রবাসীর কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রায় দেশ চলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের হয়রানি কমাতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশে ফিরে সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে চালু করা হবে প্রবাসী কার্ড।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, একটি পক্ষের লোকজন নকল ব্যালটের সিল বানাতে গিয়ে ধরা পড়েছে। তাই ঢাকা-১০সহ সারা দেশের মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যদি বিকাশ নম্বর, এনআইডি নম্বর বা অন্য কোনো তথ্য চায়, বুঝতে হবে সেখানে ষড়যন্ত্র আছে। এসব রুখে না দিলে শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার আবারো হুমকির মুখে পড়তে পারে।’
ঢাকা-৮ আসন: এরপর বেলা আড়াইটায় ঢাকা-৮ আসনে পীরজঙ্গি মাজার সড়কে এক পথসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান বক্তব্য দেন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হলেন মির্জা আব্বাস। সেখানে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন দেশ পরিচালনা করার সুযোগ পেলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান করে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করব, বিদেশ থেকে বিনিয়োগকারীদের আমরা আমন্ত্রণ জানাব। দেশে মিল কারখানা তৈরির মাধ্যমে যেমন আমরা একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করব।’
বিএনপি নির্বাচিত হলে এক লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ দেয়ার কথাও বলেন তিনি।
ঢাকা-৯ আসন: পরে রাজধানীর বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবের সমর্থনে আয়োজিত পথসভায় তারেক রহমান বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচন শুধু ভোট দেয়ার আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি বাংলাদেশ পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ।’
বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশীদ হাবিবের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এলাকার উন্নয়ন করতে হলে এমন একজন প্রতিনিধিই প্রয়োজন, যিনি এ এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন। যার বেড়ে ওঠা এ এলাকায়, মানুষের সঙ্গে যার প্রতিদিনের সম্পর্ক—একমাত্র তার পক্ষেই এ এলাকার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। হাবিব তেমনই একজন।’
তারেক রহমান পরে ঢাকা-৫ আসনে যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডে, ঢাকা-৪ আসনে জুরাইন-দয়াগঞ্জ রোডে, ঢাকা-৬ আসনে ধূপখোলা মাঠে এবং ঢাকা-৭ আসনে লালবাগ বালুর মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেন।













