বরিশালে সাবেক দুই মন্ত্রীর বাসভবনসহ চার স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ও বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে এসব ভবন এবং স্থাপনায় বুলডোজার চালায় বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা।
শেখ হাসিনার আপন ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বাসভবনের বেশ কিছু অংশ সহজেই ভেঙে ফেলা হয়। তবে আমির হোসেন আমুর বাসভবনের দেয়াল ভাঙতে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল বুলডোজার।
সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিএম কলেজের মূল ফটকে জড়ো হয়। এ সময় তারা মহাসড়কে নির্মাণ করা সাহান আরা আবদুল্লাহ পার্ক ও বরিশাল প্রেস ক্লাবে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে ছাত্রজনতা প্রেস ক্লাব ও পার্কের উদ্দেশে রওনা দেয়। দুপুর ২টার দিকে প্রেস ক্লাবে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙা শুরু হয়। অন্যদিকে সাহানা আরা আবদুল্লাহ পার্ক আড়াইটার দিকে বুলডোজার দিয়ে ভাঙা শুরু করে ছাত্রজনতা। এ সময় স্থাপনা ভাঙতে করা প্রত্যেক আঘাতে আঘাতে ছাত্রজনতাকে উল্লাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাড়ির সামনের অংশে আমির হোসেন আমু বছর পাঁচেক আগে দৃষ্টিনন্দন ডুপ্লেক্স করেছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ঝালকাঠীতে গেলে রাত যাপন করতেন এই বাড়িতে। তখন বাড়িটিতে রাজনৈতিক কর্মীদের পদচারণা হতো। শেখ হাসিনার পতনের পর ৫ আগস্ট বিকালে ডুপ্লেক্সে ভাংচুর লুটপাট হলেও অপসোনিন মালিকের পরিবারের বাসভবন অরক্ষিত ছিল।
জানা গেছে, এ বাড়িতে হামলা হয় বুধবার দিবাগত রাত ২টায়। কয়েকশ ছাত্রজনতা বুলডোজারসহ এসে প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে যায়। ডুপ্লেক্সে বুলডোজার চালানো হলেও এতে ক্ষতি হয়নি। তবে ৩ তলা পর্যন্ত সকল আসবাবপত্র ব্যাপক ভাংচুর ও কিছু বাইরে এনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে অপসোনিন মালিকের ৩ তলা ভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ হয়। সকালে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতা চলে যাওয়ার পর শুরু হয় লুটপাট। দুটি ভবনের দরজা-জানালাও খুলে নিয়ে গেছে তারা।
বেলা ১২টায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির মধ্যে কয়েকশ মানুষ। এরমধ্যে বড় অংশ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী। ফার্নিচার, ফ্যান, ফ্রিজ, লেপ-কাঁথাসহ যে যা পারছেন হাতে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন। এদের অনেককেই বলতে শোনা যায়, জনগণের টাকা লুট করে সম্পদ করেছেন, তাই নিয়ে যাচ্ছেন।
বুধবার রাতে প্রথম হামলা হয় কালীবাড়ি সড়কে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর বাড়িতে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে। এ বাড়ি থেকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের একাংশের আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন হাসনাত। তার বড় ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র। বর্তমানে পিতা-পুত্র ভারতে আত্মগোপনে আছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার রাত ১২টার দিকে ছাত্রজনতা মিছিল নিয়ে এ বাড়িতে হামলা করে। ভবনটির সামনের অংশ গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এক পর্যায়ে আগুনও দেয়া হয়। এ সময় সেনাবাহিনী বাধা দিয়েও জনতাকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়। ৫ আগস্টের দিন বিকালেও হাসনাতের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছিল। সেদিন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গাজী নাঈমুল ইসলাম লিটুসহ ৩ জন আগুনে পুড়ে নিহত হন।
এছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরের সিঅ্যান্ডবি সড়কে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক দখল করে সাদিক আবদুল্লাহর নির্মাণ করা সাহান আরা আবদুল্লাহ পার্ক এবং প্রেস ক্লাবের সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অপসারণ করেছে বিক্ষুব্ধরা।
বৈষ্যম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল মহানগর আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম শাহেদ বলনে, বিক্ষুব্দ জনতা ফ্যাসিবাদের দোসরদের আস্তুানা গুড়িয়ে দিয়েছে।










