ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও পথচারী রয়েছেন। রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাত ১১টা থেকে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, আহতদের মধ্যে একজন পথচারী, একজন সাংবাদিক ও ১৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। চিকিৎসা নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চলে গেছেন।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপন চৌধুরী (২৩), ইরফান (২০), আশরাফ (২০), মেহেদি (২৩), ফয়সাল আহমেদ (২২), সাদ (২২), হৃদয় (২৩), মাহিন (২২), ইসমাইল (২২), ইমতিয়াজ (২৪), উজ্জল (২৫), মিরাজ (২৩), আমানুল্লাহ (২২), হিমু (২৩), সাব্বির হোসেন (২৪) এবং ঢাকা কলেজের ইব্রাহিম (২৩), রিশাদ (২৩) ও রাকিব (২৪)। এছাড়া বাংলাদেশ টাইমসের সাংবাদিক তোফায়েল আহমেদ ও পথচারী উজ্জল (৩২) আহত হয়েছেন।
জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, বিকেলে ৫ দফা দাবির অগ্রগতি জানতে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
পরে রাত ১১টার দিকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ঢাবি উপ-উপাচার্যের বাসভবনের দিকে যাত্রা করেন। এতে যোগ দেন ঢাবি অধিভুক্ত অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরাও। এ সময় তাদের মিছিলে বাধা দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। নীলক্ষেত মোড়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে শুরু হয় সংঘর্ষ।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। রাত ৩টা পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে নীলক্ষেত মোড়ে আরো ব্যাপক আকার লাভ করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দফায় দফায় টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
এদিকে রাত ১টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তবে পরিস্থিতি শান্ত করতে ব্যর্থ হন তিনি। সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও বিজিবি এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সংঘর্ষের পর নীলক্ষেত মোড় ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।










