কানাডার শহর টরন্টো সব সময়ই প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের আগে লাল জার্সিধারী কানাডিয়ান সমর্থকদের ঢল যে আবহ তৈরি করেছিল, তা নিঃসন্দেহে অসাধারণ।

ভোর থেকে শুরু করে ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত সমর্থকেরা প্রাণ খুলে দলকে উৎসাহ দিয়েছেন। তাদের স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসে কানাডার প্রথম জয় দেখা। সেই স্বপ্ন পূরণের খুব কাছাকাছি গিয়েও শেষ পর্যন্ত তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনিয়ার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে।

ম্যাচ শেষে কানাডার ডিফেন্ডার লুক ডি ফুজেরোলেস বলেন, বিশ্বকাপে ড্র করাও উদযাপনের মতো একটি বিষয়। কিন্তু এতে কিছুটা আক্ষেপও আছে। পুরো ম্যাচে আমরা যে সুযোগগুলো তৈরি করেছি, সেগুলো বিবেচনা করলে মনে হয় আমাদের তিন পয়েন্ট পাওয়ারই কথা ছিল।

তার এ কথা যথার্থ ছিল। প্রথমার্ধে দুটি বড় সুযোগ নষ্ট করে কানাডা। বিরতির পরও তাদের দুটি শট গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করা হয়। ম্যাচের শেষ দিকে দৃঢ় রক্ষণভাগ গড়ে তোলা বসনিয়া প্রায় পুরো উদযাপনই মাটি করে দিতে বসেছিল।

ফুজেরোলেস বলেন, এটা মেনে নেয়া কঠিন, কারণ ম্যাচটি নিয়ে আমরা ভীষণ উচ্ছ্বসিত ছিলাম। সেট-পিস থেকে গোল হজম করলাম, অথচ এরপর প্রতিপক্ষকে খুব কম সুযোগ দিয়েছি এবং নিজেরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছি। পিছিয়ে পড়ার পর আমরা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছি। কে জানে, সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফল কী হতে পারত।

ম্যাচসেরা খেলোয়াড় ইসমায়েল কোনেও একই অনুভূতির কথা জানান।

তিনি বলেন, আমাদের অনুভূতি মিশ্র। কারণ এই ম্যাচে আমরা আরও বেশি কিছু পেতে পারতাম। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা খেলার গতি অনেক বাড়িয়েছিলাম। আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণেও ছিলাম। কিন্তু ফুটবলের বাস্তবতা এটাই। তারা ভালো পরিকল্পনা নিয়ে খেলেছে, তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।

সেট-পিস থেকে এগিয়ে যাওয়ার পর বসনিয়া খেলার নিয়ন্ত্রণ কানাডার হাতে ছেড়ে দেয়। তারা রক্ষণাত্মক অবস্থান নিয়ে পাল্টা আক্রমণের অপেক্ষায় ছিল। চাপ বাড়তে থাকায় কানাডাকে আরো বেশি ঝুঁকি নিতে হয়। আর সেখানেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে দর্শকরা।

ডি ফুজেরোলেস বলেন, অসাধারণ ছিল। সত্যি বলতে, দুই দলের সমর্থকরাই দারুণ ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ম্যাচের গতি ধরে রেখে আক্রমণ চালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কারণ আমাদের মনে হচ্ছিল দর্শকেরা আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছে। তারা যেন ১২তম খেলোয়াড়ের ভূমিকা পালন করেছে।

কোনেও জানান, গ্যালারি থেকে পাওয়া সমর্থন তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ‘আমি মনে করি এর আগে আমরা কখনো এমন অভিজ্ঞতা পাইনি। এটি ছিল সত্যিই এক জাদুকরী বিকেল। আমার মনে হচ্ছে আমরা এখানে বিশেষ কিছু করছি। সমর্থকদের আবেগ ও ভালোবাসা স্পষ্টভাবেই দেখা যাচ্ছিল। আমি শুধু প্রার্থনা করি, সমর্থন যেন এভাবেই অব্যাহত থাকে।‘