ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নয়াদিল্লির বিএসএফ সদর দফতরে গত ৮ জুন শুরু হওয়া এ সম্মেলন শেষ হয় গতকাল বৃহস্পতিবার।

সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফের মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।

বিএসএফের থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে বিদ্যমান দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে সম্মেলনটি সৌহার্দ্যপূর্ণ, ইতিবাচক এবং ভবিষ্যৎমুখী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় সমন্বয় ব্যবস্থাটি সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।

আলোচনাকালে উভয় পক্ষ মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, স্বর্ণ ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালান, অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম এবং মানবপাচারসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে।

এছাড়া সীমান্তে মৃত্যুর ঘটনা, অবৈধ, অনিচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, আস্থা-বর্ধক পদক্ষেপ এবং সীমান্তে উদ্ভূত নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

উভয় পক্ষ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও প্রশান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। তারা সমন্বিত টহল আরো জোরদার করা, নজরদারি বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় উন্নত করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টা জোরদারে একমত হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্তের পবিত্রতা সম্পর্কে সীমান্তবাসীকে সচেতন করা এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, বিদ্রোহী তৎপরতা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, এমন যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণের বিষয়ে তাদের অভিন্ন অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

উভয় পক্ষ সম্মেলনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত নিশ্চিত করার স্বার্থে সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা ও পেশাগত সম্পৃক্ততা আরো জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।

গতকাল যৌথ আলোচনার কার্যবিবরণীতে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সম্মেলনটি অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে শেষ হয়। উভয় প্রতিনিধি দল বিশ্বাস প্রকাশ করে যে, গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সমঝোতাগুলো দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করবে এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।