মিয়া গোলাম পরওয়ার। দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির হয়ে খুলনা-৫ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। এবারের নির্বাচন নিয়ে ভাবনা, ভোটের মাঠের পরিস্থিতি ও নিজ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শুভ্র শচীন

এবারের নির্বাচনে আপনাদের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা কী?

স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছর যারা দেশ শাসন করেছে, তারা কেউই দুর্নীতি, অর্থ পাচার, দলীয়করণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের দায় থেকে মুক্ত নয়। এ সময় বিশেষ করে তিনটি বড় দল বারবার ক্ষমতায় ছিল। এ ব্যর্থ রাজনৈতিক শক্তিগুলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি; বরং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও জনগণের অধিকার হরণ করেছে।

অতীতের নির্বাচনগুলো ছিল শুধু ক্ষমতার পালাবদলের। কিন্তু এবারের এ নির্বাচন হচ্ছে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদমুক্ত, সংস্কার ও পরিবর্তনের নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। সুতরাং এ নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচনে আমরা সব ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধতাকে গুরুত্ব দিচ্ছি।

দেশের মানুষ এখন মৌলিক রাজনৈতিক পরিবর্তন চায় এবং পুরনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। দেশে ইনসাফের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আর সেই পরিবর্তনে আমাদেরকে একবার সুযোগ দিন। আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমরা গত ১৫ বছরে চরমভাবে নির্যাতিত হয়েছি। মামলা-হামলা করে আমাদের নাজেহাল করা হয়েছে। খুন করা হয়েছে। গুম করা হয়েছে। এরপরও আমাদের সহকর্মীদের দ্বারা দেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। ইনশা আল্লাহ ভবিষ্যতেও হবে না।

১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যজোট সম্পর্কে বলুন।

এটি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক ঐক্য। এ ঐক্যের মধ্যে আছে ছয়টি ইসলামী দল এবং জুলাই যোদ্ধাদের দল এনসিপি। এরা কেউই আগে রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেনি এবং এদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ নেই।

এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনায় এখন অনেক কলকারখানা বন্ধ হয়ে পড়েছে। আবার যেগুলো চালু, সেগুলোও নানা কারণে ধুঁকছে। এ বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

বিগত সরকারের ভুলনীতি ও লুটপাটের কারণে একের পর এক শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বন্ধ মিল-কারখানা চালু করার পাশাপাশি নতুন শিল্প গড়ে তোলা হবে।

আপনার নিজ নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের জন্য প্রতিশ্রুতি কী?

আমি বিগত সময়ে সংসদ সদস্য থাকাকালে এলাকায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। আমার নির্বাচনী এলাকা ডুমুরিয়া-ফুলতলায় স্থায়ী জলাবদ্ধতাসহ বহুমুখী সমস্যা রয়েছে। নির্বাচিত হলে জলাবদ্ধতা নিরসনসহ ইনসাফভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

নতুন ও তরুণ ভোটারদের বিষয়ে আপনাদের ভাবনা কী?

আমাদের নির্বাচনী ইশতাহারে তরুণদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা বলেছি, কোনো যুবক বেকার থাকবেন না। রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব হবে তাদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করা। তরুণরা উদ্যোক্তা হবেন। তাদের নানামুখী কার্যক্রম ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে আমরা এ জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করব।