কয়রা, দাকোপ, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা ও ডুমুরিয়া উপজেলাসহ খুলনার আনাচে কানাচে সবখানেই তাণ্ডব চিহ্ন রেখে গেছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। বৃহস্পতিবার সকালে উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ, মাছের ঘের, ভেসে যাওয়া, ঘর বাড়ি ভেঙ্গে ও বিধ্বস্ত হওয়ার চিহ্ন প্রতি পরতে পরতে দেখা গেছে। জেলায় কোন হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও বিভিন্ন স্থানেই গাছ ও ঘরবাড়ি উপড়ে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে।
গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুন্দরবনের ভারতীয় অংশে আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। এরপর টানা কয়েকঘণ্টা তাণ্ডব চালায় রাজ্যটির বেশ কয়েকটি জেলায়। ভারতের অলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতি ঘণ্টায় আম্পানের গতিবেগ ছিল ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার। কোথাও কোথাও ১৮৫ কিলোমিটারও গতি উঠেছিল এই বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়ের।
ভারতীয় অংশে আঘাত হানার কিছুক্ষণ পরেই এর একটি অংশ আঘাত হানে খুলনা জেলাতেও। রাতভর চলে তাণ্ডব। ঝড়ের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উপকূলীয় এলাকা। কয়রা উপজেলার ১১টি জায়গায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। কয়রা সদর, উত্তর বেদকাশি, দক্ষিণ বেদকাশি ও মহারাজপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাছ পালা, কাঁচা ঘর-বাড়ি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
খুলনা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল আজাদ জানান, বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে আম্পান খুলনায় আঘাত শুরু করে। আম্পানের অগ্রভাগ সন্ধ্যায় খুলনায় আছড়ে পড়েছিল। আম্পানের প্রভাবে খুলনায় ৮০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে গেছে।
সকালে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পাইকগাছা উপজেলার লস্করের তহসিল অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খেয়াঘাট সংলগ্ন স্লুইচ গেটের ওপর দিয়ে বাঁধ ছাপিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে এলাকা নিমজ্জিত হয়। ৪নং দেলুটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলার জালিয়াখালী চর এলাকার ঘের পানিতে ভেসে গেছে। বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে গেছে। দাকোপে ঘের ভেসে গেছে। গাছপালা ভেঙ্গে পড়েছে। ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
খুলনা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজিজুল হক জোয়ার্দ্দার বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে, অনেক ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কয়রায় বেড়িবাঁধ ভেঙেছে। তালিকা তৈরির কাজ চলছে। বিকেল নাগাদ ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান জানা যাবে।
কয়রায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। কয়রার স্বেচ্ছাসেবক মো. আবু সাঈদ খান জানিয়েছেন, দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের আংটিহারা এলাকার নিরাঞ্জন ও মাজিদ গাজীর বাড়ির সামনে, ছোট আংটিহারা এলাকার বাকের গাজীর বাড়ির সামনে, গোলখালী গ্রামের তসলিম মোল্লার বাড়ির সামনে, চরামুখা খেয়াঘাট এলাকা, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাজীপাড়া ও কাশিরহাট খোলা, কয়রা সদর ইউনিয়নের হরিণখোলা এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করে। আংটিহরা স্লুইচ গেটের পুর্ব ও পশ্চিম পাশের এক কিলোমিটার এলাকার বাঁধ ভেঙে গেছে।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুর কুমার সাহা বলেন, আম্পানের প্রভাবে কয়রার কপোতাক্ষ ও শাকবাড়িয়া নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট বৃদ্ধি পায়। বাতাসের তীব্রতাও ছিল বেশি। ফলে বেড়িবাঁধ উপচে ও ১১টি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে এলাকায় লবণ পানি প্রবেশ করেছে।
খুলনা ৬ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বিভিন্ন ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৫টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্রুত এ সব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ আটকানোর প্রচেষ্টা চালানো হবে।










