পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের কোম্পানি ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) সুদ আয় বেড়েছে ৪৭ শতাংশ। একই সময়ে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফাও বেড়েছে। ব্যাংকটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 

তথ্য অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ব্যাংকটির সুদ আয় হয়েছে ১ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটির নিট মুনাফা হয়েছে ৩২২ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ২৪২ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে হয়েছিল ১ টাকা ৭৮ পয়সা (পুনর্মূল্যায়িত)। এছাড়া চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ১ টাকা (পুনর্মূল্যায়িত)। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩১ টাকা ১ পয়সায়। 

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাজারভিত্তিক ঋণের সুদহার নির্ধারণের কারণে আলোচ্য সময়ে ইস্টার্ন ব্যাংকের সুদ আয় বেড়েছে। এছাড়া সরকারি ট্রেজারি বিলের সুদহারে ঊর্ধ্বগতির কারণেও বিনিয়োগ থেকে ব্যাংকটির আয় বেড়েছে। সার্বিকভাবে এসব কারণে আলোচ্য সময়ে ব্যাংকটির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ব্যাংকটি। এর মধ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ছিল। আলোচ্য হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক। এর মধ্যে সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত মুনাফা বেড়েছে ১৯ শতাংশের বেশি। 

তথ্য অনুসারে, সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ৭ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ২৪ পয়সা। সে হিসাবে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস বেড়েছে ১৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ রয়েছে। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৪ টাকা ৭৭ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরে সমন্বিত ইপিএস ছিল ৪ টাকা ৪৭ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটি ইপিএস বেড়েছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৩ টাকা ৩৩ পয়সায়। এর আগে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্যও বিনিয়োগকারীদের মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ইস্টার্ন ব্যাংক। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ ও ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ছিল। এর আগে ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২০ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ইবিএল। এর মধ্যে সাড়ে ১৭ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১৭ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ।

১৯৯৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ১৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ২ হাজার ৬৯৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ব্যাংকের মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৮১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪।