পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে গত সপ্তাহে ৪০ শতাংশের বেশি লেনদেন কমেছে। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন দুটোই নিম্নমুখী ছিল। ডিএসইর সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুসারে, গত সপ্তাহে ডিএসইতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে খাতটির লেনদেন কমেছে ৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ খাতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সে হিসাবে খাতটির লেনদেন কমেছে ৪৫ শতাংশ। এছাড়া আলোচ্য সপ্তাহে পাট, চামড়া, জীবন বীমা ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের লেনদেন কমেছে যথাক্রমে ৭১, ৪৪, ৪২ ও ৪১ শতাংশ।

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৭৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪২২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ৪৬৩ পয়েন্ট। এছাড়া গত সপ্তাহে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯৯১ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে প্রায় ১৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২০৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ২২১ পয়েন্ট।

ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪২২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২১১টির, কমেছে ১৪৬টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টির দর। এছাড়া লেনদেন হয়নি ১৭টির।

গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও সাবমেরিন কেবলের শেয়ার। ডিএসইতে গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে মোট ১ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১৩১ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৭ দশমিক ১ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ দখলে নিয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। ৮ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। এছাড়া ৭ দশমিক ৬ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল তথ্যপ্রযুক্তি খাত। আর বস্ত্র খাতের দখলে ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে ইতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সিরামিক খাত। এ তিন খাতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে যথাক্রমে ৪ দশমিক ৪, ৪ দশমিক ১ ও ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে আলোচ্য সপ্তাহে নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল প্রকৌশল, পাট ও জীবন বীমা খাত। এসব খাতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে যথাক্রমে ২ দশমিক ৯, ২ দশমিক ৭ ও ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ১৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে দশমিক ৮৯ শতাংশ কমে ৯ হাজার ১৯২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।