বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এ আবাসন বাজারে কেনাবেচা নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। বাজার পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ভ্যালুস্ট্র্যাটের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে দুবাইয়ে আবাসন খাতে বিক্রি ১৯ শতাংশ কমেছে। এর আগে এপ্রিলেও বিক্রি ৪ শতাংশ কমেছিল। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
দুবাইয়ের প্রপার্টি এজেন্ট ইয়াসিন ভালিমুল্লা জানান, বর্তমানে যে দু-একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর দাম যুদ্ধ-পূর্বের চেয়ে ২০-২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম।
ভ্যালুস্ট্র্যাট জানায়, গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে সামগ্রিক লেনদেনের পরিমাণ অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে। ভ্যালুস্ট্র্যাটের রিয়েল এস্টেট গবেষণাপ্রধান হায়দার তুয়াইমা জানান, কভিড-১৯ মহামারীর পর থেকে তৈরি বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাজারে এত বড় বার্ষিক পতন আর দেখা যায়নি।
রেইডিন নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্যানুযায়ী, মে মাসে দুবাইয়ে ২২ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহামের (প্রায় ৬১০ কোটি ডলার) সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা এপ্রিলের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মাসের তুলনায় এ বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক।
আরব উপদ্বীপের পূর্বে অবস্থিত দুবাইয়ে গত দুবাইয়ে কয়েক বছর আবাসন ব্যবসা বেশ চাঙ্গা ছিল। মূলত আয়করমুক্ত নীতি থাকার কারণে বিশ্বের বহু ধনী ব্যক্তি সেখানে বিনিয়োগ করতে আকৃষ্ট হন। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বাজারটি বড় ধাক্কা খায়। বিশেষ করে, মার্চে দুবাইয়ের বিখ্যাত ‘পাম জুমেইরাহ’ এলাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আবাসন এজেন্টদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাটের মালিকরা এখন দাম কমিয়ে দিচ্ছেন।
ইয়াসিন ভালিমুল্লা আরো বলেন, ‘গত দেড় বছরে আমরা অনেক অতিধনী ক্রেতাদের কাছে সম্পত্তি বিক্রি করেছি। এদের প্রত্যেকেই এখন দুবাই ছেড়ে চলে গেছেন। মার্চে তৈরি হওয়া আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা আজও কাটেনি। ফলে পশ্চিম ইউরোপের ক্রেতারা এখন দুবাইয়ে সম্পত্তি কিনতে দ্বিধাবোধ করছেন। অনেকেই পরিস্থিতি বোঝার জন্য এক থেকে দুই বছর অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
বিশ্লেষকদের মতে, গত দুই বছরে দুবাইয়ের আবাসনের দাম যেভাবে অবাস্তবভাবে বেড়েছিল, তা দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা সম্ভব ছিল না। বর্তমান ধসকে মূলত বাজারের একটি ‘স্বাভাবিক সংশোধন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে অতিধনী শ্রেণী দুবাই ছেড়ে মিলান, লন্ডন ও সিঙ্গাপুরের মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক শহরের দিকে ঝুঁকছেন। আবাসন খাতের মন্দার কারণে দুবাইয়ের বহু ছোট ব্রোকারেজ বা মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতেও পড়েছে।
রিয়েল এস্টেট গ্রুপ সেনকর্পের রিচার্ড ওয়াইন্ড বলেন, ‘যুদ্ধটি আবাসন খাতের জন্য একটি আকস্মিক ও বিশাল “ব্ল্যাক সোয়ান” (অপ্রত্যাশিত সংকট) ঘটনা। বিক্রিতে মন্দা ছোট এজেন্সিগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। এক দশক আগে এ খাতে মাত্র এক হাজার ব্রোকার ছিল, যা অতিমূল্যায়িত বাজারের কারণে বেড়ে ১০ হাজারে পৌঁছেছিল। এখন এ সংখ্যা বড় আকারে কমবে।’










