দেশের পুঁজিবাজারে চার কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়া হলেও গতকাল এর প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি। এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন ঊর্ধ্বমুখী দেখা গেছে। অন্যদিকে দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গতকাল সূচক ও লেনদেন ছিল ঊর্ধ্বমুখী।

তথ্য অনুসারে, বুধবার চার কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়ার প্রথম কার্যদিবসে গতকাল খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড ও শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ারদর কমেছে। দুটি কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে যথাক্রমে ৯ দশমিক ৭৭ ও ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার হওয়া অন্য দুই কোম্পানির মধ্যে বিএসআরএম লিমিটেডের শেয়ারদর আগের কার্যদিবস থেকে ২ দশমিক ২২ শতাংশ বেড়েছে। আর মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের শেয়ারদর দিন শেষে অপরিবর্তিত ছিল।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল দিন শেষে ডিএসইর সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৮০৪ পয়েন্টে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৭৫৭ পয়েন্ট। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৪১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস ৩০ আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১২৫ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ১১৮ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ ও প্রাইম ব্যাংকের শেয়ার।

ডিএসইতে গতকাল মোট ৯৬৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৮৯৯ কোটি টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে মোট ৩৯৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ২৯৮টির, কমেছে ৬৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৩২টির বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে মোট লেনদেনের ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ দশমিক ১ শতাংশ লেনদেন ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের। আর ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্যাংক খাত। এছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ৭ দশমিক ৪ ও বস্ত্র খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

গতকাল ডিএসইতে ইতিবাচক রিটার্নে শীর্ষ ছিল আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিরামিক ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত। এ তিন খাতে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫, ৪ দশমিক ৫ ও ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে টেলিযোগাযোগ ও ওষুধ খাতে। এ দুই খাতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে যথাক্রমে দশমিক ৮, দশমিক ৩ শতাংশ।

অন্যদিকে সিএসইর নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৭২ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ৯৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ১১৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ৫২০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৩৯টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৩টির, কমেছে ৭০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ১৪ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে।