গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নবনিযুক্ত অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। গতকাল সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম পৃথক বার্তায় এ অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এ দুই মন্ত্রণালয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব নিয়োগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিনন্দন বার্তায় ডিবিএ প্রেসিডেন্ট বলেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন অভিজ্ঞ ও সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং এক্সচেঞ্জটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ, বাজার সম্প্রসারণ, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, নীতিনিষ্ঠ অবস্থান এবং বাজার উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা দেশের আর্থিক খাতকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে বিশেষ সহায়ক হয়েছে।

বার্তায় আরো উল্লেখ করা হয়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অতীতে সফলতার সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নীতি সংস্কার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ডিবিএ আশা প্রকাশ করে, তার সুদীর্ঘ প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী অভিজ্ঞতা বর্তমান দায়িত্ব পালনে বিশেষ সহায়ক হবে। পুঁজিবাজারে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করার প্রশ্নে তিনি ধারাবাহিকভাবে সোচ্চার থেকেছেন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করে আসছেন। অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে জোনায়েদ সাকির নিয়োগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ডিবিএ। সংগঠনটি মনে করে, ছাত্রজীবন থেকে মানুষের অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার লড়াইয়ে থাকা সাকির অন্তর্ভুক্তি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় নতুন গতি সঞ্চার করবে। তার প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে আর্থিক খাতে কাঠামোগত সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ডিবিএ।

পুঁজিবাজারের কাঠামোগত সংস্কার, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, বাজারের গভীরতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সুরক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী ইশতাহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের আবেদন জানিয়েছে ডিবিএ। এক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতি, পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমে সংগঠনটি অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সক্রিয় সহযোগিতা করবে এবং একটি শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাবে।