দেশের ইসলামী ধারার অর্থাৎ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোয় চলছে অস্থিরতা। এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন, নামে-বেনামে অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ, গ্রাহকদের চাহিদামতো টাকা না পাওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে পরস্পরবিরোধী অবস্থান, ঋণপ্রবাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমারেখাসহ নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামী ধারার ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদে গ্রাহকের পক্ষ থেকে সদস্য রাখার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে পর্ষদ পুনর্গঠন করে আগের পরিচালকদের নিয়ে বোর্ড গঠন ও ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় ইসলামী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকগুলোর গ্রাহক সমাবেশে ব্যবসায়ী নেতারা এসব আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন সরকারের সাবেক সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক ও অটোমোবাইল খাতের ব্যবসায়ী আব্দুল হক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে বিজয় অর্জিত হয়েছে। এখন এ স্বাধীন পরিবেশে ইসলামী ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য গ্রাহকদের সোচ্চার হতে হবে। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমে ইসলামী মনোভাবাপন্ন ব্যক্তিদের যুক্ত করতে হবে।’
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে জবরদস্তিমূলক দখল এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাটের মাধ্যমে এসএমই খাত তথা দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রেমিট্যান্স প্রাপ্তির হারও মারাত্মকভাবে কমে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘গ্রাহকরাই ব্যাংকের বড় শক্তি। তাই তাদের দাবি অনুযায়ী ব্যাংকের অর্থ পাচারকারীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর গ্রাহকরা অংশ নেন। এ সময় তারা বলেন, আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খোলার ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংক আগে অগ্রাধিকার পেত। অথচ এখন ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খুললে সেটি গ্রহণ করা হচ্ছে না।
গ্রাহকরা বলেন, দেশের প্রায় ১০ কোটি লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে জড়িত। মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ৮০ লাখ প্রবাসী ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স পাঠায়। কিন্তু বিগত বছরগুলোয় এ ব্যাংকে জবরদখলের কারণে রেমিট্যান্স পাঠানোর হার লক্ষণীয় হারে কমে এসেছে।
বক্তারা বিগত বছরগুলোয় যেসব ব্যবসায়ী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ব্যাংক ঋণ ১০ বছরের জন্য রিশিডিউল করার দাবি জানান।
সভায় গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষার্থে ইসলামী ব্যাংকে জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট গ্রাহক ফোরাম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আব্দুল হককে আহ্বায়ক করে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে মত দেন তারা।










