বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে অনিয়ম ও ভুয়া ভোটার দিয়ে অবৈধভাবে ভোট দেয়ার অভিযোগ এনে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ সদস্যদের একাংশ। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠনটিতে এমন দাবি উঠল। 

গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে বিজিএমইএর বর্তমান পর্ষদ ভেঙে দেয়ার দাবি জানান বিজিএমইএর সদস্য ও মাইশা ফ্যাশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পর্ষদে যারা আছেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করে আসেননি। অনেকে ভোট দিয়েছেন, তারা ভোটারও হতে পারেন না। আমরা মামলা করেছিলাম, কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে আদালতকে বুঝিয়ে তাদের পক্ষে রায় নিয়ে নির্বাচন করা হয়।’

চলতি বছরের মার্চে বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে ২০২৪-২৬ মেয়াদের জন্য বিজয়ী হয় সম্মিলিত পরিষদ, যারা আওয়ামীপন্থী প্যানেল হিসেবে পরিচিত। তবে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের জেরে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে। এর পরপরই ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি উঠতে থাকে। পর্ষদ ভেঙে দেয়া ও নতুন করে সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচনের দাবিতে ৭ আগস্ট থেকে সরব হন বিজিএমইএর সবশেষ নির্বাচনে হেরে যাওয়া ‘ফোরাম’ প্যানেল লিডার ফয়সাল সামাদ।

সবশেষ গত ১৯ আগস্ট বিজিএমইএর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়া ও নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন সংগঠনের সদস্যদের একাংশের জোট ‘ফোরাম’ প্যানেলের মহাসচিব রশিদ আহমেদ হোসাইনী। এর মধ্যে ২৪ আগস্ট পদত্যাগ করেন সংগঠনের সভাপতি এসএম মান্নান কচি, যিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।

এদিকে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক বলেন, ‘গত ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ক্ষমতায় আসে, যা সাধারণ সদস্যদের মনের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুনর্গঠিত কমিটির সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম আগের কমিটির পলাতক সভাপতির সময়ে সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন। বর্তমান কমিটির প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র হত্যা মামলার আসামি।’

বিজিএমইএতে গত ১০ বছরের কোনো ভোটই সুষ্ঠু হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমরা এ পর্ষদ মানি না। অবিলম্বে পরিচালনা পর্ষদকে ভেঙে দিতে হবে। প্রকৃত ভোটার দিয়ে একটি নির্বাচন করতে হবে। সেই নির্বাচনে যে কেউ দায়িত্ব নিক, আমরা মেনে নেব।’

সংবাদ সম্মেলন থেকে বিজিএমইএ সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল ও পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়াসহ সাত দফা দাবি জানানো হয়। তাদের উত্থাপিত দাবিগুলো হচ্ছে সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে দলীয় প্রভাবমুক্ত ২০ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা বোর্ড গঠন; অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা বোর্ড স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে অতি দ্রুত একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ; বিজিএমইএর অতীতের সব দুর্নীতির স্বচ্ছ ও সঠিক তদন্তের জন্য একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন; শেখ হাসিনার দোসর বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিইউএফটি) বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনসহ বর্তমান বোর্ড ভেঙে নতুন বোর্ড গঠন; ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিইউএফটি) মো. সেলিম তালুকদারসহ নিহত ও আহত শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং বিজিএমইএ বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিইউএফটি) চত্বরকে শহীদ সেলিম চত্বর ঘোষণা করা।