সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের বর্তমান প্রশাসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এসএম ফেরদৌসকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন কোম্পানিটির উদ্যোক্তা, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গতকাল এ বিষয়ে সচিবালয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় আইনি নিষ্পত্তির পর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।
চার মাস আগে এসএম ফেরদৌসকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। নিয়োগের পর তার বিরুদ্ধে নিয়মনীতি ও আর্থিক শৃঙ্খলা ভঙ্গসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সঙ্গে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সাবেক দুই চেয়ারম্যান মোস্তফা গোলাম কুদ্দুস ও কাজী মনিরুজ্জামান এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সদস্য বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য, দলিল উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম ও কামরুল হাসানের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বর্তমান প্রশাসক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এসএম ফেরদৌসের অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সোনালী লাইফের বর্তমান প্রশাসককে সরিয়ে দিয়ে তার জায়গায় অন্য কাউকে প্রশাসক বসানোর দাবি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে কোম্পানিটির বিষয়ে উচ্চ আদালতে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ফলে বিচারাধীন বিষয় হওয়ার কারণে এটি আদালতে নিষ্পত্তি হয়ে আসার পরে করণীয় নির্ধারণের কথা বলেছি আমি।’
কোম্পানিটির ১৮৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৫ জুলাই গোলাম কুদ্দুসসহ কোম্পানির আট কর্মকর্তার নামে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অন্য আসামিরা হলেন মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসের স্ত্রী ফজলুতুননেসা, মেয়ে ফৌজিয়া কামরুন তানিয়া, ছেলে মোস্তফা কামরুস সোবহান, পুত্রবধূ শাফিয়া সোবহান চৌধুরী এবং আরেক মেয়ে তাসনিয়া কামরুন আনিকা, কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান নূর-ই-হাফজা এবং সাবেক সিএফও ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদ বিন আমান।
মামলার এজাহারে মোস্তফা গোলাম কুদ্দুসসহ তার পরিবারের সদস্যদের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়। এর আগে গত এপ্রিলে আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে সোনালী লাইফের পর্ষদ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে আইডিআরএ। সে সময় সংস্থাটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোনালী লাইফের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কুদ্দুস ও কয়েকজন পরিচালকদের বিরুদ্ধে প্রাপ্ত আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করার জন্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক একটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করা হয়। তদন্তকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দাখিলকৃত প্রতিবেদনে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে বীমা আইন, ২০১০-এর ৯৫(১) ধারা মোতাবেক সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদকে ছয় মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। এছাড়া কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীনে বীমাকারীর কার্যক্রম ব্যবস্থাপনার জন্য এসএম ফেরদৌসকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাকে প্রশাসক নিয়োগ দেয়ার ঘটনায় কোম্পানিটির স্বতন্ত্র পরিচালক কাজী মনিরুজ্জামান রিট আবেদন করেন। সেই রিটের প্রাথমিক শুনানিতে প্রশাসক নিয়োগে স্থগিতাদেশ দেন আদালত। পরবর্তী সময়ে গত ২৩ এপ্রিল কোম্পানিটিতে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন হাইকোর্ট।
তবে নিয়োগের পর থেকেই বর্তমান প্রশাসকের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে কোম্পানির নিয়মিত কাজে হস্তক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ পাঁচ নির্বাহীকে বরখাস্ত করেন তিনি।










