অক্টোবরে রাশিয়া থেকে চীনের কয়লা আমদানি আগের মাসের তুলনায় কমেছে। লজিস্টিকস সংকটের কারণে রাশিয়া সরবরাহ কমিয়ে দেয়ায় দেশটি থেকে আমদানিতে বাধার প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় চীন। এছাড়া চীনে জ্বালানিটির নিম্নমুখী চাহিদাও আমদানি কমার পেছনে ভূমিকা পালন করেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানায়, গত মাসে দেশটি রাশিয়া থেকে ৬৪ লাখ ৩০ হাজার টন কয়লা আমদানি করেছে। সেপ্টেম্বরের তুলনায় আমদানি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টন কমেছে। এর আগের মাসে রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ অর্থাৎ ৮৫ লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা আমদানি করেছিল চীন।
এক মাসের ব্যবধানে কমলেও গত বছরের তুলনায় আমদানি ২৬ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার কয়লা ও জ্বালানি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দেশটি এশিয়ার বাজারে সস্তায় কয়লা বিক্রি শুরু করে। চীন এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণে কয়লা আমদানি করে। কিন্তু সম্প্রতি পরিবহন অবকাঠামো-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে রাশিয়া কয়লা সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
চীনের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, চলতি বছর যেসব কার্গো লোড করার জন্য নির্ধারিত ছিল সেগুলো এরই মধ্যে পুরোপুরি বুকড। রেলজটের কারণে নতুন করে জাহাজীকরণ দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া চীনে অর্থনৈতিক শ্লথগতিও আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কারণ বিদ্যমান পরিস্থিতিতে দেশটি বিদ্যুৎ উৎপাদন সীমিত করেছে। শিল্প খাতেও কয়লার চাহিদা কম।
শুধু রাশিয়া নয়, ইন্দোনেশিয়া থেকেও আমদানি কমেছে। গত মাসে চীন দেশটি থেকে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৬০ হাজার টন কয়লা আমদানি করে। আগের মাসের তুলনায় যা ১৩ শতাংশ কম। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ১৫ শতাংশ বেশি।
দেশটির প্রধান কয়লা উৎপাদন অঞ্চলগুলোয় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় কভিড সংক্রমণের মাত্রা ব্যাপক বেড়েছে। এ কারণে কয়লা বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। চলতি মাসে সবচেয়ে বেশি প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে পণ্য পরিবহনে। ফলে অনেক খনি কয়লা জাহাজীকরণ করতে পারেনি। অনেকে লোকসানের আশঙ্কায় উত্তোলন কমিয়ে দিয়েছে। আবার কেউ কেউ উত্তোলন বন্ধও করে দিয়েছে।
ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের ২৭ শতাংশ কয়লাই আসে ঝুংজির কাউন্টি থেকে। কিন্তু গত ১৯ অক্টোবর থেকে কভিড সংক্রমণের কারণে এ অঞ্চলের সবাইকে বাড়িতেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে। ইনার মঙ্গোলিয়ায় উহাই প্রদেশের দুটি খনি এরই মধ্যে উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে মাসব্যাপী রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে বন্ধ হয়ে আছে ডাকিন রেলওয়ে। এটি চীনের সবচেয়ে বড় কয়লা পরিবহন রুট। এছাড়া দেশটির প্রধান প্রধান বন্দরে কয়লার মজুদও নিম্নমুখী বলে জানা গিয়েছে।










