বহুজাতিক কোম্পানি লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেড শেয়ারহোল্ডারদের জন্য রেকর্ড ৪ হাজার ১০০ শতাংশ নগদ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতি শেয়ারের বিপরীতে ৪১০ টাকা লভ্যাংশ পাবেন শেয়ারহোল্ডাররা। চলতি ২০২৪ হিসাব বছরের জানুয়ারি-জুলাই নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটি।

তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪১৫ টাকা ৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮ টাকা ৮৪ পয়সা। গত ৩১ জুলাই শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৩২ টাকা ৩৫ পয়সায়, যা ৩১ ডিসেম্বর শেষে ছিল ৩৭১ টাকা ২৭ পয়সা।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, অঙ্গপ্রতিষ্ঠান লিন্ডে ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেডের শেয়ার বিক্রির কারণে কোম্পানিটির মূলধনি আয় বেড়েছে, যার ফলে কোম্পানিটির মুনাফাও বেড়েছে। এর ভিত্তিতে কোম্পানিটির রেকর্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ২৫ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো চূড়ান্ত লভ্যাংশ সুপারিশ করেনি। এর আগে ঘোষিত ১ হাজার ৫৪০ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশই কোম্পানিটির চূড়ান্ত লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ৩১ অক্টোবর ২০২৩ পর্যন্ত নিরীক্ষিত অন্তর্বর্তীকালীন আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করে এ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল কোম্পানিটি। ২০২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১৫ টাকা ২ পয়সা, আগের বছরে যা ছিল ৫৮ টাকা ৪ পয়সা। গত ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৭১ টাকা ২৭ পয়সায়। ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করে লিন্ডে বাংলাদেশের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৫৮ টাকা ৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮০ টাকা ৫৫ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে প্রায় ২৮ শতাংশ।

২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ৫৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে লিন্ডে বাংলাদেশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮০ টাকা ৫৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭০ টাকা ৫৫ পয়সা। সে হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ১০ টাকা বা ১৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৩৯৫ টাকা ৫৫ পয়সায়।

২০২০ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৪০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল লিন্ডে বাংলাদেশ। আগের হিসাব বছরে ৫০০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরে ৩৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডাররা। ২০১৭ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ১৪০ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। ওই হিসাব বছর শেয়ারহোল্ডারদের ২০০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশও দিয়েছিল তারা। এছাড়া ২০১৬ ও ২০১৫ হিসাব বছরে ৩১০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা।

লিন্ডে বাংলাদেশ ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ অক্সিজেন কোম্পানি নামে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত মূলধন ২০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১৫ কোটি ২১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৫৭৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ১ কোটি ৫২ লাখ ১৮ হাজার ২৮০। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৯ দশমিক ৩০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।