ইসলামী ব্যাংকের পুনর্গঠিত পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. ওবায়েদ উল্লাহ্ আল্ মাসুদ বলেছেন, ‘চলতি বছর পুরোটাই হবে গ্রাহকদের আস্থা ফেরানোর। আগামী বছরেও এ কাজ চলবে। ২০২৬-২৭ সাল হবে ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। আর ২০২৮-৩০ সাল এগিয়ে যাওয়ার বছর। ইসলামী ব্যাংকের বিরাজমান সমস্যা অনেক বড়। এজন্য আমরা দায়িত্ব নিয়েই রোডম্যাপ প্রণয়ন করেছি। প্রতিদিন ব্যাংকে উপস্থিত থেকে তদারকির চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত ২২ আগস্ট ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ভেঙে দেয়া পর্ষদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল এস আলম গ্রুপের হাতে। ওই দিনই ওবায়েদ উল্লাহ্ আল্ মাসুদকে চেয়ারম্যান করে ইসলামী ব্যাংকের নতুন পর্ষদ গঠন করে দেয়া হয়েছিল। গতকাল ব্যাংকটির নতুন পরিচালকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎ শেষে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক থেকে যে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, তার অর্ধেকের বেশি টাকা একাই এস আলম গ্রুপ নিয়েছে।’ এসব ঋণের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখন বের করা হচ্ছে। এস আলমের ঋণের বিপরীতে যেসব সম্পদ বন্ধক দেয়া আছে, তারও পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কারণ, এসব সম্পদের দাম বেশি দেখিয়ে ঋণ বের করা হয়েছে। ঋণের বিপরীতে বন্ধক হিসেবে দেয়া হয়নি, এস আলম গ্রুপের এমন সম্পদের খোঁজ নিতে আইন মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। এসব সম্পদ খুঁজে পাওয়ার পর তা ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে তারল্য সংকট শুরু হয়েছে ২০২২ সাল থেকে। এখন ব্যাংকের গ্রাহক, প্রবাসী আয় পাঠানো গ্রাহক, শেয়ারধারী ও বিদেশী উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান কেউই ব্যাংকের ওপর আস্থা পাচ্ছেন না। এজন্য ব্যাংকের প্রকৃত অবস্থা যাচাইয়ে তিনটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা ব্যাংকের ঋণ, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদের ওপর নিরীক্ষা করবে। আগে ভালো নিরীক্ষা হয়নি, তাই আজ ব্যাংকের এ পরিণতি হয়েছে।’










