বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনে গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি আজ থেকে তিনদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বন্ধ থাকবে ব্যাংকিং লেনদেনও। ফলে এ সময় দেশের পুঁজিবাজারেও লেনদেন বন্ধ থাকবে। এদিকে গতকাল সপ্তাহের প্রথম দিন পুঁজিবাজারে ব্যাপক দরপতন হয়েছে। পাশাপাশি কমেছে লেনদেনও।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত মাসে দেশের পুঁজিবাজারে টানা তিনদিন লেনদেন বন্ধ ছিল। পরে সীমিত পরিসরে অফিস ও ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুর পর পুঁজিবাজার খুললেও কমে আসে লেনদেনের সময়সীমা। গত ৩১ জুলাই থেকে সব অফিস স্বাভাবিক সময়সূচি অনুসারে চালানোর নির্দেশনা আসার পর এদিন থেকে পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি অনুসারে লেনদেন শুরু হয় পুঁজিবাজারে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রভাবে গতকাল সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পরই আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করতে থাকেন বিনিয়োগকারীরা। এতে পয়েন্ট হারাতে থাকে সূচক, যা লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ১০৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫ হাজার ৩৩৪ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ২১ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ১৬৫ পয়েন্টে। গতকাল নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস ৩০ প্রায় ৪২ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২০ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৫৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ৯০১ পয়েন্টে। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি), রেনাটা, ব্র্যাক ব্যাংক, গ্রামীণফোন ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারের।
ডিএসইতে গতকাল ২০৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫৫২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৯৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৬টির, কমেছে ৩৭২ টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১৯টির বাজারদর।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে মোট লেনদেনের ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেন ছিল সিমেন্ট খাতের দখলে। আর ১২ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। এছাড়া ব্যাংক খাতের ৮ দশমিক ৩ ও সাধারণ বীমা খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। গতকাল ডিএসইতে সব খাতেই নেতিবাচক রিটার্ন ছিল।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল প্রায় ১১৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৯ শতাংশ কমে ৮ হাজার ৯৯৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৯ হাজার ১১৩ পয়েন্টে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ১৯৩ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৮ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৯২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৫ হাজার ১১৯ পয়েন্টে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ১৭৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১০টির, কমেছে ১৫৪টির আর অপরিবর্তিত ছিল ১১টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৩৩৮ কোটি টাকা।










