গতকাল জাপানের বাজারে নিশানের নতুন ‘কিকস’ মডেলের গাড়িটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। বিশ্বজুড়ে এসইউভি গাড়ির ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়াতে চায় সংকটে থাকা জাপানি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। নিশান এ ব্যবসায়িক পুনরুত্থান পরিকল্পনার নাম দিয়েছে ‘রি: নিশান’। খবর নিক্কেই এশিয়া।
টোকিওতে গাড়িটি উন্মোচনের এক অনুষ্ঠানে নিশানের জাপান মার্কেটিং ও সেলস বিভাগের করপোরেট এক্সিকিউটিভ আকিরা সুগিমোতো বলেন, ‘আরো বেশি গ্রাহকের কাছে ইভি পৌঁছে দেয়ার জন্য নতুন কিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মডেল। এটি নিশানের প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ।’
দ্বিতীয় প্রজন্মের কমপ্যাক্ট এসইউভি গাড়িতে নিশানের নিজস্ব তৃতীয় প্রজন্মের ‘ই-পাওয়ার’ হাইব্রিড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। জাপানের বাজারে এ প্রযুক্তির গাড়ি নিশানের এটিই প্রথম। ই-পাওয়ার হাইব্রিড প্রযুক্তিতে গাড়ির ইঞ্জিন মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন করে এবং মোটর গাড়িটিকে সচল রাখে। পাশাপাশি গাড়িটিতে রয়েছে নিশানের ই-ফোরস ইলেকট্রিক অল-হুইল-ড্রাইভ সিস্টেম। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন এ প্রযুক্তি গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা আরো উন্নত করবে এবং গাড়ির ভেতরের শব্দ কমাবে।
নিশান মূলত তিন সদস্যের পরিবারকে লক্ষ্য করে নতুন কিকস মডেলটি তৈরি করেছে। গাড়িটির শুরুর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৯ লাখ ৯০ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৮ হাজার ৬০০ ডলার)।
নিশান সুনির্দিষ্টভাবে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা প্রকাশ না করলেও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হোন্ডার ‘ভেজেলের’ হাইব্রিড মডেল ও টয়োটার ‘করোলা ক্রসের’ সঙ্গে বাজারে প্রতিযোগিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে গাড়ি নির্মাতাদের কাছে এসইউভি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরি হয়ে উঠেছে। অটোমোটিভ গবেষণা প্রতিষ্ঠান মার্কলাইনসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে বিশ্বজুড়ে এসইউভি বিক্রির সংখ্যা চার কোটি ইউনিট ছাড়িয়ে গেছে, যা মোট গাড়ি বিক্রির ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২১ সালেও এ হার ছিল ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, নিশানের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে মোট যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রির ৫৯ দশমিক ১ শতাংশই ছিল এসইউভি।
নিশানের কর্মকর্তা আকিরা সুগিমোতো জানান, গত এক দশকে জাপানে কমপ্যাক্ট এসইউভির বাজার প্রায় ৩ দশমিক ৮ গুণ বেড়েছে এবং এটি এখন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাতগুলোর একটি।










