২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে আবারো খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক উৎপাদন, ব্যবহার, সমাপনী মজুদ ও বাণিজ্য কমার আভাস মিলেছে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে ইন্টারন্যাশনাল গ্রেইনস কাউন্সিল (আইজিসি) এ পূর্বাভাস দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মৌসুমে খাদ্যশস্যের (গম ও দানাদার শস্য) বৈশ্বিক উৎপাদন ৩ কোটি ৩০ লাখ টন কমতে পারে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২২৫ কোটি ৫০ লাখ টনে। আগের তুলনায় উৎপাদন পূর্বাভাস ১ শতাংশ কমানো হয়েছে।
এ মৌসুমে গম, যব ও জই উৎপাদন বাড়লেও ভুট্টা ও সরগাম (এক ধরনের শস্য) উৎপাদন কমবে ব্যাপক হারে। এটি বৈশ্বিক শস্য উৎপাদনকে নিম্নমুখী করে তুলতে ভূমিকা রাখবে।
গত মৌসুমের তুলনায় ভুট্টা উৎপাদন ৫ কোটি ৩০ লাখ ও সরগাম উৎপাদন ১০ লাখ টন কমবে। অন্যদিকে গম উৎপাদন এক কোটি টন, যব উৎপাদন ৬০ লাখ ও জই উৎপাদন ২০ লাখ টন বাড়বে। এছাড়া অন্যান্য দানাদার শস্য উৎপাদন ৩০ লাখ টন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ মৌসুমে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক ব্যবহার দাঁড়াবে ২২৭ কোটি ২০ লাখ টনে। গত মৌসুমের তুলনায় ব্যবহার ১ শতাংশ কমতে পারে। ২০১৫-১৬ বিপণন মৌসুমের পর এবারই প্রথম খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক ব্যবহার কমার আভাস মিলেছে। মূলত পশুখাদ্য উৎপাদন ও শিল্প খাতে নিম্নমুখী চাহিদা ব্যবহার কমে যাওয়ার পেছনে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে।
এদিকে মৌসুমের শেষ নাগাদ শস্যের মজুদ দাঁড়াতে পারে ৫৮ কোটি টনে, যা আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত মৌসুমের তুলনায় মজুদ ১ কোটি ৬০ লাখ টন কমতে পারে। এ নিয়ে টানা ছয় বছর নিম্নমুখিতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সমাপনী মজুদ। সব ধরনের শস্যের মধ্যে ভুট্টার মজুদ কমে এক দশকের সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। প্রধানত এ কারণেই সার্বিক মজুদ পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
চীন, কানাডা, তুরস্ক ও ব্রাজিলে আমদানি কমে যাওয়ার কারণে চাপের মুখে পড়েছে খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যও। গত মৌসুমের তুলনায় বাণিজ্য ৪ শতাংশ কমতে পারে।
এদিকে আগামী বছর কফি, পশুখাদ্য, তেলবীজসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক দাম নিম্নমুখী থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ডাচ বহুজাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান রাবোব্যাংক। ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন কিংবা সরবরাহ নয়, বরং দুর্বল চাহিদার কারণেই খাদ্যপণ্যের দাম কমবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাবোব্যাংক সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী বছর শীর্ষ অর্থনীতির দেশগুলো মন্দা দেখার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদক থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত খাদ্যপণ্যের ব্যবহার কমবে। তবে দাম কমলেও তা করোনা মহামারী-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে পারবে না।
ব্যাংকটি বলছে, জ্বালানি সংকট, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও গমসহ কিছু পণ্যের তীব্র সংকট বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ভোক্তারা সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চলেছেন।
রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাতের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে গমের বাজারে। আগামী বছর বিশ্ববাজারে ৬০ লাখ টন গমের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে রাবোব্যাংক। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও আর্জেন্টিনায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে শস্যটির উৎপাদন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে।
এদিকে আগামী বছর কফির চাহিদা প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছে রাবোব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছর চাহিদা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে, যা গড় চাহিদা প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাজারে ৪০ লাখ ব্যাগ কফির উদ্বৃত্ত তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে চিনির বাজারদরও আগামী বছর তুলনামূলক কমতে পারে। এক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রাখবে পণ্যটির উৎপাদন উপযোগী আবহাওয়া।










