দ্বিতীয় আইসক্রিম উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের জন্য ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ। এরই মধ্যে কোম্পানিটি বর্তমান আইসক্রিম উৎপাদন কারখানার কাছে ময়মনসিংহের ভালুকায় ৫৯ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি কিনেছে।

দ্বিতীয় আইসক্রিম উৎপাদন ইউনিটের অধিকাংশ মূলধনি যন্ত্রপাতি কিনতে সিঙ্গাপুরের টেট্রা প্যাক সাউথইস্ট এশিয়া পিটিই লিমিটেড, চীনের এমইসি গ্রুপ, ইতালির টেকনোআইস ও চীনের ইয়ানটাইমুন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি করবে লাভেলো। 

দ্বিতীয় আইসক্রিম উৎপাদন ইউনিট স্থাপন ও আইসক্রিম উৎপাদন শুরুর পর লাভেলোর দৈনিক আইসক্রিম উৎপাদনক্ষমতা দাঁড়াবে আড়াই লাখ লিটার, যা বর্তমান আইসক্রিম উৎপাদনক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি। দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদিত আইসক্রিম ২০২৫ সালের জুন থেকে বাজারজাত করা হবে। কোম্পানির নগদ প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে অভ্যন্তরীণ উৎস ও ব্যাংকের অর্থায়ন থেকে এ বিনিয়োগ করা হবে।

চলতি ২০২৩-২৪ হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) লাভেলোর মুনাফা বেড়েছে ৭৩ শতাংশ। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৬ কোটি ১ লাখ টাকা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বা ৭৩ শতাংশ। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭১ পয়সা, আগের হিসাব বছর একই সময়ে ছিল ৪১ পয়সা।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সে হিসেবে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা বা ১২ শতাংশ। এ সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ১৪ পয়সা। গত ৩১ মার্চ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৩ টাকা ২১ পয়সায়, গত বছরের ৩০ জুন শেষে ছিল ১২ টাকা ৯৪ পয়সা।

সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৪ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৪৩ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১২ টাকা ৯৪ পয়সায়।  

২০২১-২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ১২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪৩ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১২ টাকা ৯০ পয়সায়।

এর আগে ২০২০-২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৪১ পয়সা। আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৩১ পয়সা। সেই হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ১০ পয়সা বা ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ৩০ জুন ২০২১ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১২ টাকা ৫৭ পয়সায়। আগের হিসাব বছরে শেষে যা ছিল ১২ টাকা ৭৫ পয়সা।