গত সপ্তাহের শেষ চার কার্যদিবস সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকালও সূচক ছিল নিম্নমুখী। সব মিলিয়ে পাঁচ কার্যদিবস ধরেই নিম্নমুখিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে পুঁজিবাজারে। 

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত পাঁচ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১২৪ পয়েন্টের বেশি। এর মধ্যে গত সপ্তাহের সোমবার ২৬, মঙ্গলবার ১৭, বুধবার ৪৮ ও বৃহস্পতিবার ১০ পয়েন্ট হারিয়েছে সূচকটি। আর চলতি সপ্তাহে গতকাল ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ৪৯ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন শুরুর পর থেকে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পরে সূচকের বড় নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। এতে দিন শেষে সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়। 

গতকাল দিন শেষে ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬৭৯ পয়েন্টে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৫ হাজার ৮৭৬ পয়েন্ট। গতকাল সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইউসিবি, ডেল্টা লাইফ, আইএফআইসি ও ওরিয়ন ফার্মার শেয়ারের।

এদিকে ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল দিন শেষে ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২২১ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ১ হাজার ২২৯ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ১৪ পয়েন্ট কমে এদিন ২ হাজার ১০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবস শেষে যা ছিল ২ হাজার ১১৪ পয়েন্ট। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৭৯ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৬৭৫ কোটি টাকা। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯৭টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৬৪টির, কমেছে ২৮৯টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৪টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ দখলে নিয়েছে ব্যাংক খাত। ১০ দশমিক ৭ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। ১০ দশমিক ৫ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। আর ৬ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে বস্ত্র খাত।

অনদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৮৮ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৭৮৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ১৪১ পয়েন্ট কমে ১৬ হাজার ২৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। গতকাল সিএসইতে ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে।