বৈষম্য দূর করতে অর্থনীতির মূল ধারার পরিবর্তন দরকার বলে মন্তব্য করেছেন ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী। তিনি বলেন,' শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উভয় ক্ষেত্রে প্রতিটি গোষ্ঠী বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।এ বৈষম্য থেকে বের হতে আমাদেরকে দুটো জিনিসের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।প্রথম হলো- আয়বৈষম্য। আমাদের দেশে আয়কর যারা দেয় তাদের সংখ্যা অনেক কম। তাই কর ব্যবস্থার পরিবর্তন আনা উচিত। এছাড়া আমাদের সুযোগের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য সেখানে সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া উচিত।

সোমবার (১১ নভেম্বর) সকালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন মুস্তফা কে মুজেরী।

আইএনএম নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আমাদের আশপাশের দেশ বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো আমাদের চেয়েও দ্রুত গতিতে উন্নয়ন করেছে কিন্তু বৈষম্য তাদের ওখানে ততটা বৃদ্ধি পায়নি। অর্থাৎ বৈষম্য কম রেখেও আমরা কিন্তু উন্নয়ন করতে পারি।’

বৈষম্য দূরীকরণে করণীয় বিষয়ে তিনি বলেন, বৈষম্য দূরীকরণে অনেকগুলো পদ্ধতির একটি হল প্রগ্রেসিভ ইনকাম ট্যাক্স। আমি মনে করি আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিৎ সুযোগের বৈষম্য নিশ্চিত করা। সুযোগের সমতার অভাবেই আমাদের দেশে বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। কাজেই বৈষম্য সৃষ্টি করাটা বন্ধ করতে হবে। সেক্ষেত্রে মনে হয়, আমাদের নীতি কাঠামো এবং অর্থনীতির কাঠামো পরিবর্তন করা দরকার। দেশে যে উন্নয়ন আমরা করছি তা বৈষম্য দূরীকরণে সহায়ক নয়। আমাদের একটি নতুন ধারার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। যেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে আমরা মূল হিসেবে গ্রহণ করব এবং উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে যে সুযোগ গুলো সৃষ্টি হচ্ছে, সে সুযোগ গুলো যেন একটি সুবিধাভোগী শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে সেদিকে আমাদের নজর দিতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়েছে তা আমরা দূর করতে পারি এবং উন্নয়নের নতুন ধারার সৃষ্টি করতে পারি।