দেশজুড়ে কোটা আন্দোলনের ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তিন সপ্তাহ ধরে অস্থির সময় পার করছে পুঁজিবাজার। সর্বশেষ গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট হারিয়েছে। এ সময়ে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ কমেছে ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইন্টারনেট পরিষেবার ব্যাঘাত ও পুরোপুরি কারফিউ তুলে না নেয়ার প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়ছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আতঙ্কগ্রস্ত সময় পার করছেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। 

পুঁজিবাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহের ডিএসইএক্স সূচক এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৩৩৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৫ হাজার ৪১৪ পয়েন্টে। এছাড়া গত সপ্তাহে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ৩২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৯৩৩ পয়েন্টে। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে প্রায় ১৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ১৬৫ পয়েন্ট। 

ডিএসইতে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া মোট ৪১৩টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৯টির, কমেছে ৩২৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২১টির দর। এছাড়া লেনদেন হয়নি ১৬টির। গত সপ্তাহে সূচকের পতনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে পাওয়ার গ্রিড, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, রেনাটা, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস ও ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ারের। ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ২২০ কোটি টাকা।

খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯ শতাংশ দখলে নিয়েছে ব্যাংক খাত। ১০ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। এছাড়া ৯ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল প্রযুক্তি খাত।

আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে টেলিকম বাদে সব খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। টেলিকম খাতে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে দশমিক ১ শতাংশ। আর নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল সিরামিক, কাগজ ও সেবা খাত। খাত তিনটিতে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ১, ৪ দশমিক ৫ ও ৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত সপ্তাহে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ১১৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৫ হাজার ৪১৫ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচকটি গত সপ্তাহ শেষে ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ৯ হাজার ১১৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ৯ হাজার ২৮৬ পয়েন্টে। সিএসইতে গত সপ্তাহে ৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। গত সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ২৩০টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির বাজারদর।