নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে আটা-ময়দার দাম। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে গম সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি দাম কমে যাওয়া এর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, এক মাসের ব্যবধানে আটা-ময়দার দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজির বস্তা) কমেছে ৩৫০ টাকা। অন্যদিকে গমের দাম কমেছে ২৬০-৩৫০ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে নিতাইগঞ্জে রাশিয়ার গম বেচাকেনা হচ্ছে মণপ্রতি ১ হাজার ৪৫০ টাকা দরে, যা এক থেকে দেড় মাস আগেও ছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে ৩৫০ টাকা। কানাডার গম বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৭৯০ টাকা কেজি দরে, যা এক মাস আগেও ছিল মণপ্রতি ২ হাজার ৫০ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে ২৬০ টাকা।
ভালো মানের আটা বেচাকেনা হচ্ছে বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৫৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে, যা দেড় মাস আগেও ছিল ২ হাজার টাকায়। সে হিসাবে দাম কমেছে ৪০০-৪৫০ টাকা।
কিছুটা নিম্ন মানের আটা বেচাকেনা হচ্ছে ১ হজার ৪৫০ টাকা দরে, যা এক থেকে দেড় মাস আগেও ছিল ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকা। সে হিসাবে দাম কমেছে বস্তাপ্রতি ৪০০ টাকা। পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি বেচাকেনা হচ্ছে ২৯ টাকা দরে।
নারায়ণগঞ্জ আটা-ময়দা ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ ওয়াজেদ আলী বাবুল জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে গমের সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তুরস্কের সহযোগিতায় কৃষ্ণসাগর দিয়ে ইউক্রেন থেকে গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে এলে সংকট শিথিল হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি দেশের বাজারেও গমের দাম কমতে শুরু করে। যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের গম বাংলাদেশে আসছে খুব কম পরিমাণে। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে রাশিয়া ও কানাডার গম। ভারত, অস্টেলিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের গম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দাম কমলেও তা গত বছরের তুলনায় এখনো বেশ চড়া।
ইয়াকুব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী বেনজির আহমেদ জানান, বাজারে যে দামে গম বেচাকেনা হচ্ছে তা অনেক বেশি। মূলত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গম ব্যবসায়ীদের অতিমুনাফা লাভের প্রবণতার কারণেই বাজার বেশ চড়া।
গম ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন জানান, দেড়-দুই মাস ধরে আটা-ময়দার দাম কিছুটা নিম্নমুখী। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম কমে আসায় দেশের বাজারে দাম কমেছে। গমের দাম কমার কারণেই আটা-ময়দার দাম কমেছে। তবে বর্তমানে যে দামে গম বেচাকেনা হচ্ছে তা খুব বেশি। কারণ দেড় দুই বছর আগেও বাজারে গম বেচাকেনা হয়েছে ৮৫০-৯৫০ টাকা দরে। বর্তমানে সে গম ১ হাজার ৪৫০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে।









