উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে নেয়া ঋণের সুদ পরিশোধেই বিপুল অংকের অর্থ খরচ করছে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো। বিশ্বজুড়ে সুদহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের ব্যয়ের পরিমাণ আরো বেড়েছে। ২০২৩-২৪ সালের মধ্যে বিদেশী উৎস থেকে নেয়া ঋণের সুদ বাবদ রেকর্ড ১৫ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি পরিশোধ করতে যাচ্ছে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর নিক্কেইএশিয়া। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সাল নাগাদ দেশগুলো ঋণ ও ঋণের সুদ পরিশোধে (ডেট সার্ভিসিং কস্ট) ব্যয় মেটাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করবে। ঋণ নেয়া দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের মতো উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ যেমন আছে, তেমনি বাংলাদেশ বা ভারতের মতো নিম্নমধ্যম আয়ের দেশও আছে। দেশগুলোর এমন ঋণের পরিমাণ ২০২২ সালে ৩ শতাংশ কমে ৮ দশমিক ৯৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোর বিশ্বজুড়ে সুদহার বাড়ার কারণে ঋণের বোঝা বেড়েছে। 

২০২২ সালে বিশ্বের ৭৫টি দেশ ২ হাজার ৩৬০ কোটি ডলারের সুদ পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গে ডেট সার্ভিসিং কস্ট বাবদ প্রায় ৮ হাজার ৮৯০ কোটি ডলার ব্যয় করেছিল। ২০২৩ সালে ব্যয়ের পরিমাণ ৫০ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৭৭০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৪ সাল নাগাদ তা ১২ হাজার ২৯০ কোটি ডলারে পৌঁছতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক। 

প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, মূল্যস্ফীতি ও উচ্চ সুদহারের কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হতে পারে। ফলে সার্বিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে চলতি বছর উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে, যা গত দশকের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম। 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) গত এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৩ সালে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৪ ও ২০২৫ উভয় বছরে এ হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে যাবে। ফলে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোয় এ প্রভাবের বাইরে থাকবে না।

এমন পরিস্থিতিতে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক। এ লক্ষ্যে প্রোগ্রামের তহবিল জোগাতে দাতা দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এরই মধ্যে ১০ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে জানিয়েছেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট আকিহিকো নিশিও। 

তবে ঋণের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ওপর জোর দিচ্ছেন নিশিও। তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ঋণদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অত্যন্ত জরুরি। কেননা স্বচ্ছতার অভাব থাকলে ঋণের মেয়াদ বাড়ানো কিংবা অন্যান্য কাঠামোকরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যেমন ২০২০ সালে জাম্বিয়া খেলাপি হওয়ার পর ঋণ পুনর্গঠন নিয়ে ঋণদাতাদের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনা শেষে চুক্তিতে পৌঁছাতে তিন বছর সময় লেগেছিল।চীনের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক এক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করেছিল। কেননা চীন সাধারণত ঋণ চুক্তির শর্ত বাইরে প্রকাশ করে না।