আজ থেকে ৫১ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এ দিনে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যার শিকার হন চার জাতীয় নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এএইচএম কামারুজ্জামান ও ক্যাপ্টেন মনসুর আলী। ষড়যন্ত্র, ক্ষমতার পাল্টাপাল্টি দখলের ধারাবাহিকতায় রাতের আঁধারে কারাগারে বন্দি অবস্থায় হত্যা করা হয় চার নেতাকে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলা ‘জেলহত্যা মামলা’ নামে পরিচিতি পায়। আজ ৩ নভেম্বর জেলহত্যা দিবস।

জাতীয় চার নেতাই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালে গঠিত মুজিবনগর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এর মধ্যে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে। এএইচএম কামারুজ্জামান ও মনসুর আলী ছিলেন মন্ত্রিসভার সদস্য।

প্রখ্যাত সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস তার ‘বাংলাদেশ আ লিগ্যাসি অব ব্লাড’ গ্রন্থে চার নেতার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরই চার নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।’

জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পরদিন লালবাগ থানায় একটি মামলা হয়। এতে বাদী হন তৎকালীন উপকারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) কাজী আবদুল আউয়াল। মামলার অভিযোগপত্র দেয়া হয় ২৩ বছর পর ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর। ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত এ মামলায় রায়ে আসামি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও দফাদার আবুল হাশেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০০৮ সালে হাইকোর্ট মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেও মারফত আলী ও হাশেম মৃধাকে খালাস দেন। ফারুক, শাহরিয়ার রশিদ, বজলুল হুদা ও মহিউদ্দিন আহমেদকেও খালাস দেন হাইকোর্ট।