দেশের বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আগের তুলনায় বেড়েছে ভুট্টা আমদানি। কিন্তু আমদানি বাড়লেও বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। এ কারণে পণ্যটির দাম বাড়ছে।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর  বন্দর দিয়ে ১৩টি ট্রাকে ৫০৮ টন ভুট্টা আমদানি হয়েছে। অক্টোবরে  ১৮৮টি ট্রাকে ৭ হাজার ৬৮৮ টন আমদানি হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে আমদানি ব্যাপক বেড়েছে। এছাড়া বন্দর দিয়ে চলতি মাসের প্রথমার্ধে ২৩৬টি ট্রাকে ৯ হাজার ৭৪২ টন ভুট্টা আমদানি হয়েছে। যেখানে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ২৯টি ট্রাকে ১ হাজার ২২৪ টন ভুট্টা আমদানি হয়েছিল। এছাড়া অক্টোবরে ৫৯টি ট্রাকে ২ হাজার ৫৩২ টন ভুট্টা আমদানি হয়েছিল।

হিলি স্থলবন্দরে ভুট্টা কিনতে আসা জয়পুরহাটের হক ফিডের প্রতিনিধি শাওন হোসেন বলেন, তিন-চার মাস আগে ভুট্টার দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩০-৩২ টাকা। বর্তমানে তা ৩৭-৩৮ টাকায় ঠেকেছে। দাম বাড়ার কারণে মুরগির খাদ্য উৎপাদন করতে বাড়তি খরচ হচ্ছে।

হিলি স্থলবন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুট্টা সরবরাহকারী বেলাল হোসেন বলেন, আমরা হিলি স্থলবন্দর থেকে ভুট্টা কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিড মিলগুলোয় সরবরাহ করি। কিন্তু বর্তমানে মিলগুলোয় ভুট্টার চাহিদা থাকলেও দাম বাড়তি। ফলে তারা ভুট্টা কিনছেন না। আগে প্রতিদিন মিলগুলোয় ৫-৭ ট্রাক ভুট্টা পাঠাতাম। বর্তমানে এক-দুই ট্রাক ভুট্টা পাঠানোই মুশকিল হয়ে পড়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের ভুট্টা আমদানিকারক সারোয়ার হোসেন বলেন, ফিড মিলগুলোয় ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে। তবে ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো চাহিদামাফিক এলসি দিচ্ছে না। ফলে যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে সে অনুযায়ী ভুট্টা আমদানি করা যাচ্ছে না। তাই দেশের বাজারে দাম কমছে না। বর্তমানে ভারত থেকে প্রতি টন ভুট্টা ৩০০-৩২৫ ডলার মূল্যে আমদানি করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কিনতেই প্রতি কেজিতে প্রায় ৩৬ টাকা খরচ হচ্ছে। ব্যাংকগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে এলসি দেয়া শুরু করলে বন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ার পাশাপাশি দামও কমবে।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্দর দিয়ে ভুট্টা আমদানি আগের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়েছে। বন্দর দিয়ে আগে ৫-১০ ট্রাক করে ভুট্টা আমদানি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ২৫-৩০ ট্রাকে উন্নীত হয়েছে। বন্দর দিয়ে ভুট্টা আমদানি বাড়ার ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়ছে।