শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়ম অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম ও তার স্ত্রী, মেয়ের স্বামী, আত্মীয়সহ তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ডের ফলে পুঁজিবাজারসংশ্লিষ্ট কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা এ বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল বিএসইসির পরিচালক মো. মাহমুদুল হক স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানা গেছে। তথ্য অনুসারে, সালমান এফ রহমান ও এস আলমের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মাদ আবুল হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক অমিত কুমার সাহা ও তৌহিদুল ইসলাম সাদ্দাম। অনুসন্ধান কমিটির সদস্যদের ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট এস আলম গ্রুপ ও সালমান এফ রহমানের অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অনুসন্ধানে নেমেছে বিএসইসি। 

অন্যদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি মিউচুয়াল ফান্ডের অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করতে কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তথ্য অনুসারে, পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে ইনভেস্টএশিয়া গ্রোথ ফান্ড ও ইনভেস্টএশিয়া ব্যালান্স ইউনিট ফান্ডের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। 

তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ এমদাদুল হক, উপপরিচালক মো. রফিকুন্নবী ও সহকারী পরিচালক মো. সাকিল আহমেদ। 

ফান্ড দুটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ইনভেস্টএশিয়া ক্যাপিটাল অ্যান্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং ট্রাস্টি হিসেবে রয়েছে সেন্টিনেল ট্রাস্টি অ্যান্ড কাস্টোডিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড ও ইনভেস্টএশিয়া ক্যাপিটাল অ্যান্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। গঠিত কমিটি ফান্ডগুলোর সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০০১ সালের বিধি ৫৫ এবং এর প্রাসঙ্গিক ধারা ও সংশ্লিষ্ট ট্রাস্ট ডিড লঙ্ঘন হয়েছে কিনা, কোনো সিকিউরিটিজে ফান্ডগুলোর বেআইনি বিনিয়োগ করা হয়েছে কিনা, ফান্ডগুলোর মেয়াদে ইনভেস্টএশিয়া ক্যাপিটাল অ্যান্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এমডি/সিইওসহ মূল ব্যবস্থাপনা কর্মীদের কোনো বেআইনি কার্যকলাপ আছে কিনা তা পর্যালোচনা করবে। মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর নিরীক্ষক, ট্রাস্টি ও কাস্টোডিয়ানের ভূমিকা সম্পর্কে রিপোর্ট করা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপক, ট্রাস্টি, তত্ত্বাবধায়ক ও ফান্ডগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ ২০০১-এর বিধি ৪১-এর কোনো লঙ্ঘন করেছে কিনা সে বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।