ইউরোপজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকটে অনেক দেশই তাদের কয়লাবিদ্যুৎ কারখানাগুলো ফের সচল করেছে। উচ্চ জ্বালানিমূল্যের সুবিধা ঘরে তুলতে এগিয়ে এসেছে চেক প্রজাতন্ত্রের অস্ট্রাভা অঞ্চল। সেখানে এখন কয়লাচালিত কারখানাগুলোয় বড় আকারের কয়লার স্তূপ দেখা যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন চেক প্রজাতন্ত্রের সবচেয়ে দূষিত শহরের খেতাব ছিল অস্ট্রাভার। মূলত অতিরিক্ত কয়লানির্ভরতার কারণে এ দুর্নাম কামিয়েছিল শহরটি। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশ দূষণ কমানোর চেষ্টা করে আসছিল অস্ট্রাভা। দূষিত নগরীর তকমা গুচিয়ে পর্যটক আকর্ষণ হিসেবে ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে ইউরোপে জ্বালানিমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নীতিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। নতুন করে কয়লানির্ভরতা বৃদ্ধির ফলে স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ের পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্য অর্জন কঠিন ঠেকবে চেক প্রজাতন্ত্রের জন্য।
রাশিয়া কর্তৃক ইউরোপে জ্বালানি রফতানি হ্রাসের সিদ্ধান্তে চেক প্রজাতন্ত্রের মতো বিভিন্ন দেশের জীবনযাত্রায় বড় আকারের পরিবর্তন এসেছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প হিসেবে অনেকেই সেকেলে কাঠ-লাকড়ি ও কয়লায় ঝুঁকছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বাদামি কয়লার দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে কয়লা উত্তোলন আগের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানায় চেক শিল্প ও
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়লাচালিত বিদ্যুৎ শুধু যে জলবায়ুর জন্য ক্ষতিকর তা নয়, বরং মানুষের জন্য বড় একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি। নাইট্রোজেন অক্সাইড ও পারদসহ বিভিন্ন ভারী পদার্থ নিঃসরিত হয় এবং এর মাধ্যমে হ্রদ ও নদীর মাছ দূষিত হয়।
২০০৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্ত হওয়ার পর পরিবেশগত মান বজায় রাখার চেষ্টার ফলে দেশটির বায়ু মান উন্নত হয়েছিল। কিন্তু নয়া পরিস্থিতিতে সবকিছু ফের চ্যালেঞ্জের সামনে পড়েছে।
স্পেনের বার্সেলোনা ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথ বা আইএসগ্লোবালের আট শতাধিক ইউরোপীয় শহরের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, চেক প্রজাতন্ত্রের আঞ্চলিক রাজধানী অস্ট্রাভা ও নিকটবর্তী কারভিনা ও হ্যাভিরভ ইউরোপের সবচেয়ে দূষিত ১০ নগরীর তালিকায় রয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যদি ওই শহরগুলোর বায়ু মান নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তাহলে প্রতি বছরে অন্তত ৫২৯টি মৃত্যু এড়ানো যেত।
জিদেনকা নেমেচকোভা নামে স্থানীয় এক পরিবেশবাদী বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, অস্ট্রাভা অঞ্চলের এখনো ৫০ হাজারের মতো পুরনো ফার্নেস পরিবর্তন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
চেক প্রজাতন্ত্রে যে কয়লা শিল্পের পুনরুজ্জীবন হয়েছে, সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অস্ট্রাভার কাছাকাছি কয়লাখনিতে উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি জ্বালানি সংকট আমলে নিয়ে সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হঠেছে সরকার।
রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত মাইনিং কোম্পানি ওকেডি অন্তত চলতি বছরের শেষ নাগাদ মাইনিং তত্পরতা চালিয়ে যাবে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ঘরবাড়ি উষ্ণ রাখার জন্য এ কয়লা ব্যবহার হবে। দেশটির বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ জোগান দেয় কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। ২০৩৩ সালের মধ্যে জ্বালানি খাতে কয়লানির্ভরতা পুরোপুরি বাদ দেয়ার লক্ষ্য হাতে নিয়েছিল চেক সরকার। তারপর থেকে পারমাণবিক বিদ্যুতে জোর দেয়ার কথা ছিল দেশটির। কিন্তু সাম্প্রতিক বিড়ম্বনায় যে লক্ষ্য কবে পূরণ হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।










