গত এক বছরে এ ধরনের জালিয়াতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ২২ কোটি পাউন্ডের বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। দেশটির আর্থিক বাণিজ্য সংস্থা উইকে ফাইন্যান্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাজ্যের বেশকিছু ব্যাংকের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে প্রায় ১৫ হাজার বিনিয়োগ প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীরা মানুষকে ঠকিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিতে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুয়া বিনিয়োগ বা অস্তিত্বহীন তহবিলে অর্থ স্থানান্তর করতে প্ররোচিত করে মোট ২২ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড চুরি করা হয়েছে এক বছরে।

সংস্থার অর্থনৈতিক অপরাধবিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুথ রে জানান, বিনিয়োগ প্রতারণা এখন অপরাধীদের কাছে খুব জনপ্রিয়। কারণ এ খাতে অল্প পরিশ্রমে অনেক বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়া যায়। সাধারণত অপরাধীরা স্বর্ণ, সম্পত্তি ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের বিপরীতে বড় অংকের মুনাফার লোভ দেখায়। বর্তমানে এআই প্রযুক্তির বিকাশের কারণে আগের চেয়ে অনেক বড় পরিসরে এ ধরনের প্রতারণা করা সহজ হয়ে গেছে।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের রিফর্ম পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজ ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলির একটি ডিপফেক ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সাধারণ মানুষকে এআই-সৃষ্ট প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করে।

রুথ রে বলেন, ‘এআই প্রযুক্তি অপরাধীদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অনেক বেশি উন্নত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। এর মাধ্যমে খুব দ্রুত ও সহজে নকল ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়, যা দেখে সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠানটিকে বৈধ মনে হয়।’

তিনি জানান, এআই ব্যবহার করে একসঙ্গে লাখ লাখ মানুষের কাছে বার্তা পাঠানো ও ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন তারকা বা ভুক্তভোগীর বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের কণ্ঠস্বর হুবহু নকল করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

বার্ষিক জালিয়াতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাজ্যে সব মিলিয়ে ১২৮ কোটি পাউন্ড চুরি হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় যা ৪ শতাংশ বেশি। হিসাব করে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যে প্রতি মিনিটে গড়ে আটজন মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছে। প্রতি মিনিটে প্রতারকরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোট ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড হাতিয়ে নিচ্ছে।