অক্টোবরে চীনে সয়াবিন আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। বছরের প্রথম ১০ মাসেও আমদানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। খামারগুলোয় দুর্বল চাহিদা, ঊর্ধ্বমুখী দাম ও লোকসানের আশঙ্কা আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গত মাসে আমদানি কমে আট বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে।
চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অক্টোবরে চীনের মোট সয়াবিন আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ কমেছে। ওই মাসে দেশটি সব মিলিয়ে ৪১ লাখ ৪০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করে। ২০১৪ সালের পর এটি মাসভিত্তিক সর্বনিম্ন আমদানি।
ব্রাজিল চীনে প্রধান সয়াবিন সরবরাহকারী দেশ। অক্টোবরে দেশটি থেকে চীনের সয়াবিন আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। ঊর্ধ্বমুখী দাম ও মাড়াইয়ে লাভের হার কমে যাওয়ার কারণেই লাতিন আমেরিকার দেশটি থেকে আমদানি চাহিদায় ভাটা পড়েছে।
চীন বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন ক্রেতা দেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, অক্টোবরে দেশটি ব্রাজিল থেকে ২৮ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করে। গত বছরের একই সময় আমদানি করা হয়েছিল ৩৩ লাখ টন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তীব্র খরার কারণে ব্রাজিলে সয়াবিন উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে তেলবীজটির দামও আগের বছরের তুলনায় বেশ ভালো পরিমাণে বেড়েছে। বেশি দাম দিয়ে সয়াবিন আমদানি করে লাভ করতে পারছে না মাড়াই প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া খামারগুলোয় সয়াবিন থেকে উৎপাদিত পশুখাদ্যের চাহিদাও কম।
এদিকে ব্রাজিল থেকে কমলেও এ সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি স্থিতিশীল ছিল। জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস জানায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীন গত মাসে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৮ টন সয়াবিন আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময় আমদানি করা হয়েছিল ৭ লাখ ৭৫ হাজার ৩৩১ টন।
চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে চীন ব্রাজিল থেকে ৪ কোটি ৯৩ লাখ ১০ হাজার টন সয়াবিন আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময় আমদানি করা হয়েছিল ৫ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টন। সে হিসাবেও দেশটি থেকে আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে।
অন্যদিকে বছরের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা হয়েছে ২ কোটি ১ লাখ টন। গত বছরের একই সময় আমদানি করা হয়েছিল ২ কোটি ২৫ লাখ ৭০ হাজার টন। সে হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকেও আমদানি কমেছে।










