অক্টোবরে ভারতের ইস্পাত রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৬ শতাংশ কমেছে। চলতি অর্থবছরের এখন পর্যন্ত এটাই সর্বনিম্ন রফতানি। নিম্নমুখী বৈশ্বিক চাহিদা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় দাম বেশি হওয়ায় রফতানিতে এমন মন্দা দেখা দিয়েছে।

ভারতের ইস্পাতবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দেখা তথ্যানুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে ভারত ১০ লাখ ৫০ হাজার টন ইস্পাত রফতানি করেছিল, কিন্তু চলতি বছরের একই সময় রফতানি অর্ধেকেরই বেশি কমে ৩ লাখ ৬০ হাজার টনে ঠেকেছে। এছাড়া চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় রফতানি ৪০ শতাংশ কমেছে। স্টেইনলেস, অ্যালয়েড, নন-অ্যালয়েডসহ সব ধরনের ইস্পাত রফতানিই ছিল মন্দার মুখে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা চাহিদার গতিকে মন্থর করে তোলে। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস (এপ্রিল) থেকেই কমতে শুরু করে রফতানি।     

অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (এপ্রিল-অক্টোবর) রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৫৫ শতাংশ। এ সময় দেশটি ৩৯ লাখ টন ইস্পাত রফতানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময় রফতানি করা হয়েছিল ৮৮ লাখ টন। অন্যদিকে একই সময় ধাতুটির আমদানি ১৪ শতাংশ বেড়েছে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ৫০ হাজার টনে।

একটি বাণিজ্যিক সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারে ইস্পাতের দাম কমলেও ভারত সে তুলনায় বেশি দামে ধাতুটি রফতানি করছে। রফতানির তুলনায় আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দেশটি অক্টোবরে নিট ইস্পাত আমদানিকারকে পরিণত হয়েছে। চলতি অর্থবছর এটি টানা দ্বিতীয়বারের মতো নিট আমদানিকারকে পরিণত হলো দেশটি।

এদিকে চলতি বছর ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদা কমার পূর্বাভাস মিলেছে। নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যস্ফীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর মুদ্রানীতি, বিশ্বজুড়ে অব্যাহত সুদহার বৃদ্ধি, চীনের অর্থনীতিতে মন্দা ও লকডাউনসহ নানা কারণে ধাতুটির চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়ছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি শর্ট রেঞ্চ আউটলুক শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওয়ার্ল্ড স্টিল জানায়, গত বছর করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে বিশ্ব অর্থনীতিতে গতি ফিরতে শুরু করে। ফলে ইস্পাতের বৈশ্বিক চাহিদা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ে। কিন্তু চলতি বছর তা ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমবে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ১৭৯ কোটি ৬৭ লাখ টনে। যদিও আগামী বছর চাহিদা আবারো ঘুরে দাঁড়াবে। ওই বছর ১৮১ কোটি ৪৭ লাখ টন ইস্পাতের চাহিদা তৈরি হতে পারে, যা চলতি বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। অবকাঠামো খাতে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা ওই বছর মোট চাহিদা বৃদ্ধিতে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে।

ওয়ার্ল্ড স্টিল ইকোনমিকস কমিটির চেয়ারম্যান ম্যাক্সিমো ভেডোয়া বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন মূল্যস্ফীতি, যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাসংকোচন নীতি, চীনে অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানি ব্যয়, সুদের হার বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলাসহ নানা কারণে ইস্পাত ব্যবহারের খাতগুলো মন্থর হয়ে পড়েছে। এ কারণেই আমরা ইস্পাতের চাহিদা পূর্বাভাস কমাতে বাধ্য হয়েছি।

চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই চীনে ইস্পাতের চাহিদা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। এ বছর দেশটিতে মোট চাহিদা ৪ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে।