নীতি নির্ধারণে ছাত্র-জনতার অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা ও সম্পদের সমতাভিত্তিক বণ্টনই গণঅভ্যুত্থানের প্রধান চাওয়া বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। সোমবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে ইলেকট্রনিক ও হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হাইসেন্স ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বশির উদ্দিন বলেন, আমরা একটা বিপ্লবের মাধ্যমে এসেছি, যেটাকে জুলাই রেভ্যুলেশান বলা হচ্ছে। এ বিপ্লবের সবচেয়ে বড় চাওয়া হচ্ছে, নাগরিকের সমতাভিত্তিক অংশগ্রহণ এবং জাতীয় সম্পদের সমতাভিত্তিক বণ্টন। এর জন্য আমাদের আরো বেশি কর্মসংস্থান ও সমতাভিত্তিক সমাজ তৈরি করতে হবে।
এ সময় শেখ বশির উদ্দিন হাইসেন্স ইন্টারন্যাশনালকে আশ্বাস দেন যে বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণে সরকার যথাসাধ্য সহযোগিতা করবে। তিনি আরো বলেন, হাইসেন্সের মতো বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশী কোম্পানির অংশীদারি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সহায়তা করবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এখানে আমাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। আমরা যতদূর সম্ভব আমরা বাংলাদেশকে গ্লোবাল হাব বানানোর উদ্যোগ নেব। হাইসেন্সের মতো বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের জন্য এখানে আহ্বানও করবো। আমরা এখানে আরো কাজ করতে চাই, আরো বেশি শিখতে চাই, আমাদের হাত ধরেন এগিয়ে নেন, আমাদের গাইড করেন, কীভাবে আমরা আরো ভালো করতে পারি। আমাদের প্রয়োজনীয় যা করার তার সবটুকু আমরা করবো।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ভিডিও বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের ফেয়ার গ্রুপের সঙ্গে হাইসেন্সের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের এ অংশীদারত্বের ফলে বোঝা যায়, বাংলাদেশের উৎপাদন খাত কতটা এগিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই অংশীদারির সফলতা নিশ্চিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
ফেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন আল মাহবুব বলেন, বাংলাদেশের বাজার অনেক বড়। এখানকার জনগোষ্ঠীর বড় অংশ এখনো তরুণ। ফলে ভবিষ্যতে ইলেকট্রনিকস পণ্যের বাজার আরো বড় হবে।
রুহুল আমিন আল মাহবুব বলেন, হাইসেন্সের মতো বড় ব্র্যান্ডের বাংলাদেশে আসার সুবিধা হলো, এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে একটা ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ বা পশ্চাৎসংযোগ শিল্প গড়ে ওঠে। এতে মূল্য সংযোজন হয় এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, হাইসেন্সের সঙ্গে এ অংশীদারত্বের মাধ্যমে সর্বোচ্চ মূল্য সংযোজন করা।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন হাইসেন্স ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন ফ্যাং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক এস এম ফেরদৌস আলম।










