দেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়ানক আকার ধারণ করেছে, এবং ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষ আটকা পড়েছে। যদিও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে, এই এলাকাগুলোতে এরই মধ্যে খাদ্য এবং মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের জন্য ত্রাণ বিতরণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত ২২ আগস্ট থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বন্যা দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে ওরিয়ন।
বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য
চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, চিঁড়া, চিনি, বিস্কুট, পানি,
স্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাবার সরবরাহ করে যাচ্ছে ওরিয়ন।
এছাড়া শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে শিশু খাদ্যও বিতরণ করা হচ্ছে।
বিশেষত ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের
দুর্গম এবং ঝুকিপূর্ণ এলাকাগুলোতেও উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফেনীর
চিরুনিয়া, হোসেনিয়া মাদ্রাসা, রতনপুর তালতলা মসজিদ, বিরুলিয়া বাজার, পূর্ব চিলোনিয়া,
ফাজিলপুর, দক্ষিণ চাঁদপুর, মহিপাল এবং কুমিল্লার আখাউড়া, কসবা, লাঙ্গলকোট এলাকায়ও ত্রাণ
বিতরণ করছে তারা।
ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমকে সুসংগঠিত
করার জন্য, ওরিয়নের প্রতিনিধিদল স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের
সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতা করছে, যাতে শিশু,
নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে এই সংকট মোকাবেলা করা
যায়।
এই ভয়াবহ বন্যার কারণে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে
প্রচুর চিকিৎসা সহায়তার প্রয়োজনীয়তাও দেখা দিয়েছে। ওরিয়ন বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির
মাধ্যমে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা পরীক্ষা ও ওষুধও সরবরাহ করছে।
এছাড়া ওরিয়ন বর্তমান ও বন্যা পরবর্তী প্রভাবের
চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার জন্য একদিনের কর্মচারীদের বেতনও বন্যার্তদের
দান করছে, বিশেষত যাদের বাড়ি ও অন্যান্য সম্পদ প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে তাদের জন্য।
ওরিয়ন জানিয়েছে, যতক্ষণ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের
স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে না আসে, তাদের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।










