বিশ্বজুড়ে ডিজেলের লাগামছাড়া দাম মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিতে জ্বালানি জোগাচ্ছে। পাশাপাশি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও। ফলে আগামী বছর জ্বালানিটির বৈশ্বিক চাহিদায় ভাটা পড়তে পারে। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এমনটা জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)।

ডিজেলের বৈশ্বিক বাজারে নজিরবিহীন সংকট চলছে। আগামী বছর রুশ জ্বালানি পণ্যের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠলে সংকট আরো ঘনীভূত হবে বলে মনে করছে আইইএ।

এমনটি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর আগেই ডিজেলের বাজারে ঘাটতি দেখা দেয়। কারণ মহামারী দেখা দেয়ার পর থেকে যুদ্ধের আগ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে দৈনিক ৩৫ লাখ ব্যারেল পরিশোধন সক্ষমতা বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে গত বছর করোনার প্রভাব শিথিল হতে শুরু করলে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের অর্থনীতিতেই গতি ফিরে আসে। পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ডিজেলের চাহিদা। ফলে ওই বছর ডিজেলসহ ডিসটিলেট মজুদ কমে কয়েক দশকের সর্বনিম্নে নামে। সংকুচিত হয়ে আসে পরিশোধন সক্ষমতাও। ফলে ডিজেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। বর্তমানে জ্বালানিটি গত বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশ বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে এ বছর পণ্যটির চাহিদা গত বছরের তুলনায় লক্ষ্যণীয় মাত্রায় কমার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী বছরও এ ধারা বজায় থাকবে।

আইইএ বলছে, গত বছর ডিজেল কিংবা গ্যাসওয়েলের চাহিদা প্রবৃদ্ধি দৈনিক ১৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। এ বছর প্রবৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে মাত্র দৈনিক চার লাখ ব্যারেল। আগামী বছর তা আরো কমবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের লাগামছাড়া দামের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিটির গ্রাহকরা তেল ব্যবহারে ঝুঁকছেন। তা সত্ত্বেও ডিজেলের চাহিদা কমবে। কারণ বর্তমানে পণ্যটির দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। তার ওপর অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়ছে।

সংস্থাটি জানায়, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যেই রুশ জ্বালানি তেলের ওপর ইইউর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। তখন নন-রাশিয়ান ডিজেলের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে। এর মধ্যে ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য, ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে সরবরাহ নিশ্চিতে জোর প্রয়াস চালাবে। সরবরাহ নিশ্চিতের এ প্রতিযোগিতা পণ্যটির দামকে আরো ঊর্ধ্বমুখী করে তুলবে। ফলে বাধ্য হয়ে বিকল্প পণ্যে স্থানান্তর হবে গ্রাহকরা। তবে পরিশোধন সক্ষমতা বাড়লে বিদ্যমান অনিশ্চয়তার উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।