নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে আটা-ময়দার দাম বেড়েই চলছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ কেজি বস্তায় ময়দার দাম বেড়েছে ২৫০ টাকা। আর আটার দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা। পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন আমদানিকারকরা। যদিও আমদানিকারকরা বলছেন, ডলার সংকট, এলসি খোলার জটিলতা ও হরতাল-অবরোধের ফলে সরবরাহ কমায় বেড়েছে গমের দাম। যার প্রভাব পড়েছে আটা-ময়দার বাজারেও। 

পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পর্যাপ্ত গম মজুদ থাকার পরও দেশের শীর্ষ গম আমদানিকারকদের একটি সিন্ডিকেট প্রায় ১০ দিন নানা অজুহাতে গম বিক্রি বন্ধ রাখে। এ সময় আটা-ময়দা উৎপাদন অব্যাহত রাখায় সাধারণ মিলারদের হাতে থাকা গমের মজুদও শেষ হয়ে আসে। এ সুযোগে আমদানিকারকদের সিন্ডিকেট মণপ্রতি গমের দাম ১৬০-১৮০ টাকা বাড়িয়ে দেয়। বাজার ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি পর্যায়ে মণপ্রতি রাশিয়ান গম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৭০ টাকা দরে, যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল ১ হাজার ৩০০ টাকা। সে হিসাবে মণপ্রতি দাম বেড়েছে ১৭০ টাকা। বাজারে প্রতি মণ অস্ট্রেলিয়ান গম বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮৭০ টাকায়, যা কিছুদিন আগেও ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা। এ হিসাবে মণপ্রতি দাম বেড়েছে ২৭০ টাকা।

এদিকে গমের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে আটা-ময়দার বাজারেও। দু-তিন সপ্তাহ আগেও ভালো মানের ময়দা (৫০ কেজির বস্তা) বাজারে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৫০ টাকায়। আর ভালো মানের আটার দামও আগের থেকে বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা বেড়ে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ২০০ টাকায়। তবে কিছুটা নিম্নমানের প্রতি বস্তা আটা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার টাকায়, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ১ হাজার ৮৫০ টাকা।

নিতাইগঞ্জের আটা-ময়দা ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ ওয়াজেদ আলী বাবুল বলেন, ‘‌বাজারে আটা-ময়দার কোনো সংকট নেই। কিন্তু কিছু গম আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নানা অজুহাত তুলে প্রায় সপ্তাহখানেক বাজারে গম বিক্রি বন্ধ রাখে। ফলে বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। এখন মজুদ করা গম বেশি দামে বিক্রি করছে। বেশি দামে গম কেনার কারণে আমাদেরও আটা-ময়দার দাম বাড়াতে হচ্ছে।’ 

বিদেশ থেকে গম আমদানি করে নিজস্ব মিলে গম থেকে আটা-ময়দা তৈরি করেন কেডিএস এগ্রোর স্বত্বাধিকারী মো. মাহবুবুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘‌এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য হওয়ায় গম আমদানির জন্য এলসি খুলতে তেমন জটিলতা পোহাতে হয় না। তবে দেশের বাজারে ডলার সংকটে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে ডলার কিনে এলসি খুলতে হচ্ছে। আর হরতাল-অবরোধে গম পরিবহন করার মতো পর্যাপ্ত গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে না। যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর ভাড়াও চাচ্ছে বেশি। পাশাপাশি লাইটার জাহাজ থেকে প্রতি মণ গম বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৪২০ টাকা দরে। কিন্তু এ গম বস্তায় ভরে নারায়ণগঞ্জ বা অন্য জেলার গোডাউনে পৌঁছে দিতে আরো ৫০-৬০ টাকা খরচ হয়। এসব কারণে গমের দাম বেড়ে গেছে।’

আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে বলে জানান ক্রাউন এগ্রোর স্বত্বাধিকারী কৃষ্ণ গোপাল সাহা। তিনি বলেন, ‘‌হঠাৎ বাজার ওঠানামা করায় আমাদের সবসময়ই শঙ্কার মধ্যে থাকতে হয়।’

তবে নিতাইগঞ্জের কয়েকজন আটা-ময়দা ব্যবসায়ী জানান, দেশের গমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন ৫-১০ জন আমদানিকারক। তাদের মধ্যে দু-তিনজন খুবই বড় মাপের ব্যবসায়ী। মূলত তারাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। আমদানিকারকদের এ সিন্ডিকেটের হাতে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও সপ্তাহ দুই আগে বাজারে গম বেচা বন্ধ করে দেয়। ফলে গমের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। এক লাফে ১ হাজার ৩২০ টাকা থেকে গমের দাম বেড়ে ১ হাজার ৪৭০ টাকায় ওঠে।